ডিএ বৈঠকে ডাক পেল মাত্র ৪ সংগঠন, ব্রাত্যদের ক্ষোভে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

ডিএ বৈঠকে ডাক পেল মাত্র ৪ সংগঠন, ব্রাত্যদের ক্ষোভে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

আগামী ৩০ মে নবান্নে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে আলোচনা করতে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেলা এগারোটার এই বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডিএ সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য শুধুমাত্র চারটি সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সংগঠনগুলি হলো— সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অফ গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ়, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ। সমস্ত সংগঠনকে না ডেকে বেছে বেছে মাত্র চারটি পক্ষকে আলোচনায় ডাকার এই সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি কর্মচারী সংগঠনগুলি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বঞ্চনার অভিযোগে সরব বিরোধী সংগঠনগুলি

মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সিপিএম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ এবং পে কমিশনের দাবিতে তারা লাগাতার আন্দোলন করেছেন এবং তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে বহু কর্মীকে জেলেও যেতে হয়েছে। এত দীর্ঘ আন্দোলনের পরেও তাদের আলোচনার টেবিলে জায়গা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সুরে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন, ডিএ আন্দোলনে বহু সংগঠনের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কেন এই ধরনের বিভাজন তৈরি করছেন।

আইনি জটিলতা কাটানোর চেষ্টা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

অন্য দিকে, বৈঠকে ডাক পাওয়া সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, বিগত সরকার কর্মচারীদের দাবিদাওয়াকে গুরুত্ব না দিলেও বর্তমান সরকার অন্তত আলোচনার পরিসর খোলা রেখেছে। তাঁরা বৈঠকে সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দাবিদাওয়া খোলা মনে তুলে ধরবেন।

রাজ্য প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ডিএ নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চালাচ্ছিলেন, মূলত তাঁদেরকেই এই বৈঠকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার চাইছে আইনি লড়াইয়ের জটিলতা পাশ কাটিয়ে কীভাবে দ্রুত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ও পে কমিশন সংক্রান্ত দাবিদাওয়া মিটিয়ে দেওয়া যায়, তার একটি সুনির্দিষ্ট পথ বের করতে। তবে এই সিলেক্টিভ বা বাছাই করা বৈঠককে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ সংগঠনগুলি যদি আগামী দিনে নতুন করে আন্দোলনে নামে, তবে তা প্রশাসনিক কাজকর্ম ও রাজ্য রাজনীতির পরিমণ্ডলে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *