অবৈধ নির্মাণ বিতর্ক, এবার জবাব দিতে কলকাতা পুরসভার কাছে আরও সময় চাইল অভিষেকের সংস্থা

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তি নিয়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে এবার নতুন মোড়। কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) পাঠানো নোটিসের জবাব দিতে এবার পুর কর্তৃপক্ষের কাছে বাড়তি সময় চাইল সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি। পুরসভা সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যায় সংস্থার তরফে বিল্ডিং বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়ে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করার জন্য ১০ দিনের সময়সীমা আবেদন করা হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতার কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সংস্থার নামে থাকা একাধিক সম্পত্তি নিয়ে পুরসভার তরফে ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অতিরিক্ত নির্মাণের অনুমতির কাগজ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেখানে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথমে দুটি বাড়ির কথা সামনে এলেও, পরবর্তীতে জানা যায় যে অভিষেকের আত্মীয়দের নামসহ মোট ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতর ও অস্বস্তি
বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়ে এর আগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, তা নির্দিষ্ট করে জানানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সংস্থা কর্তৃক সময় চেয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনা রাজনৈতিক মহলে অভিষেকের ‘অস্বস্তি’ বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথারীতি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী শিবির যেখানে কড়া তদন্তের দাবি তুলছে, সেখানে শাসক দলের একাংশের দাবি এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। যদিও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিষয়টিকে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলেই উল্লেখ করেছেন।
প্রশাসনিক অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, চিঠিতে সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা পুরসভাকে সবরকম তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তবে নথিপত্র সাজানোর জন্য তাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন। পুরসভার নিয়মানুযায়ী কোনও পক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য সময় চাইলে তা দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তাই পুর কর্তৃপক্ষ আপাতত ১০ দিনের এই আবেদন মঞ্জুর করার পক্ষেই মত দিয়েছে।
বর্তমানে কলকাতা পুরসভা শহরজুড়ে বেআইনি কাঠামোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বহু এলাকায় ইতিপূর্বেই বুলডোজার দিয়ে অবৈধ বহুতল ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাইপ্রোফাইল নেতার সংস্থার সম্পত্তি নিয়ে পুরসভার এই তদন্ত এবং সময় চাওয়ার ঘটনা আগামী দিনে কলকাতার আবাসন খাতের নিয়মকানুন কঠোর করার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে পারে।