বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মাঝে ইবোলার রক্ষাকবচ আনছে ভারতের সিরাম এবং অক্সফোর্ড

আফ্রিকা মহাদেশে নতুন করে থাবা বসিয়েছে মারাত্মক ইবোলা ভাইরাস। বিশেষ করে কঙ্গো ও উগান্ডায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রায় মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। এর আগে ইবোলার কিছু প্রতিষেধক বাজারে এলেও তা সংক্রমণ ঠেকাতে তেমন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এবার ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও পরীক্ষামূলক প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু করেছে ভারতের পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। আগামী ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই এই নতুন টিকা বাজারে নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংক্রমণের কারণ ও ভয়াবহতা
ইবোলা ভাইরাসের মূল বাহক মূলত এক প্রজাতির ফলখেকো বাদুড়। এই বাদুড় নিজেরা আক্রান্ত না হলেও এদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাণীর দেহে রোগটি ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর মাংস খেলে বা সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। পরবর্তীতে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা দেহরসের (যেমন হাঁচি বা কাশি) মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির শুরুতে জ্বর, সর্দি-কাশি ও পেটের সংক্রমণ হলেও ধীরে ধীরে হার্ট, লিভার ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। শেষ পর্যায়ে শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ এবং একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার পাঁচটি প্রজাতির মধ্যে তিনটি অত্যন্ত সংক্রামক, যা দ্রুত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
সতর্কতা ও ভারতের ওপর প্রভাব
আফ্রিকা মহাদেশের এই তাণ্ডব অন্য দেশে যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ভারতের বিমানবন্দরগুলিতে ইতিমধ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এমনকি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দিল্লিতে আয়োজিত চতুর্থ ভারত-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনও স্থগিত করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে প্রথম ২০১১ সালে এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দিল্লিতে ইবোলার সংক্রমণ ধরা পড়ে। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি’র হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারতে ইবোলায় আক্রান্ত হওয়া বা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক পেশাগত ও অন্যান্য কারণে নিয়মিত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে যাতায়াত করেন, যার ফলে এই ভাইরাসের দেশীয় সংক্রমণের আশঙ্কা ও ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সিরাম ও অক্সফোর্ডের এই যৌথ উদ্যোগ বিশ্ববাসীর পাশাপাশি ভারতের জন্যও একটি বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।