অলিম্পিকের বিশ্বমঞ্চে এবার ভারতের নতুন বাজি যোগাসন

ঐতিহ্যবাহী যোগব্যায়াম এবার আর কেবল শরীরচর্চা বা মানসিক শান্তির মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেডেল ও স্কোরবোর্ডের হাতছানি দিয়ে এটিকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক খেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর ভারতের এই প্রচেষ্টা নতুন গতি পেয়েছে। তবে মূল লক্ষ্য আরও দূরে, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চলে, তবে অলিম্পিকের মূল মঞ্চে অভিষেক ঘটতে পারে যোগাসনের। ইতিমধ্যেই ভারতের জাতীয় গেমস, খেলো ইন্ডিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যোগাসনকে অন্তর্ভুক্ত করে এর কাঠামোগত ভিত্তি মজবুত করা হয়েছে।
ধ্যান নয়, নজর এখন নিখুঁত শারীরিক কসরতে
সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগ এবং যোগাসনের পার্থক্য নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও ক্রীড়াক্ষেত্রে এর সংজ্ঞা সম্পূর্ণ আলাদা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগ একটি বিশাল দর্শন যার মধ্যে ধ্যান, প্রাণায়াম ও আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিযোগিতামূলক খেলা হিসেবে ‘যোগাসন’ বলতে মূলত শরীরের নির্দিষ্ট আসনগুলোকে বোঝায়। এখানে জিমন্যাস্টিকসের মতো গতি না থাকলেও রয়েছে চরম স্থিরতা।
বর্তমানে যোগাসনকে মোট ২৭২টি আসনে বিভক্ত করে ‘এ’ থেকে ‘ই’ পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে ‘ই’ হলো সবচেয়ে কঠিন স্তর। প্রতিযোগীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আসন প্রদর্শন করতে হয়। ভারসাম্য হারালে বা শরীর সামান্য কাঁপলেও নম্বর কাটার পাশাপাশি পেনাল্টি দেওয়ার কঠোর নিয়ম রয়েছে। ফলে এখানে সামান্যতম ভুলেও মেডেল হাতছাড়া হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।
দর্শক টানতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
যোগাসনকে দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় ও টেলিভিশন-বান্ধব করে তুলতে ক্রিকেটের মতোই বড়সড় রূপান্তর আনা হচ্ছে। ডিজিটাল সম্প্রচারের টিআরপি ধরে রাখতে এই খেলায় যুক্ত করা হয়েছে শট ক্লক, ইলেকট্রনিক জাজিং এবং মিউজিকের সঙ্গে সিঙ্ক্রোনাইজেশন। এমনকি অ্যাথলিটদের শরীরের ভঙ্গি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পরিকাঠামোগত দিক থেকে এই খেলার বড় সুবিধা হলো এর জন্য কোনো বিশাল স্টেডিয়াম বা মাঠের প্রয়োজন হয় না। বিশ্বের বহু দেশেই যোগচর্চার চল থাকায় আন্তর্জাতিক স্তরে এর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা সহজ হবে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্রিকেটের মতো অতি জনপ্রিয় খেলার দাপটের মাঝে যোগাসন বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চে কতটা স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারে। তবে নিজের ঘরের ঐতিহ্যকে অন্য কেউ নতুন মোড়কে বিশ্ববাজারে পেশ করার আগেই, ভারত এটিকে বিশ্বের বুকে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া-উপহার হিসেবে তুলে ধরতে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।