ফাঁস নারী সুরক্ষার ফাঁকা বুলি, সমাজমাধ্যমের পোস্টে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের

বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ কমতেই রাজ্যে নারী সুরক্ষা ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই এক নতুন মোড় নিয়েছে। নির্বাচনের প্রচারে যে নারী নিরাপত্তাকে মূল হাতিয়ার করে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব বারবার সরব হয়েছিলেন, ভোট মেটার এক মাস কাটতে না কাটতেই সেই দাবিকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলে দেগে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। সম্প্রতি কলকাতায় ঘটে যাওয়া এক নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, এমনটাই দাবি জোড়াফুল শিবিরের।
রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিজেপিকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় বারবার আউড়ে যাওয়া নারী সুরক্ষার সেই লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতি এখন কোথায় গেল এবং নারীদের নিরাপত্তার তথাকথিত অভিভাবকেরা এখন কোথায় লুকিয়ে আছেন।
আক্রমণের নেপথ্যে কলকাতার নৃশংস ঘটনা
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উল্লেখ করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কলকাতার সেই চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস অপরাধের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এই ধরনের জঘন্য ও পাশবিক অপরাধে জড়িত প্রতিটি অপরাধীর কঠোরতম শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনার সূত্র ধরে রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের দ্বিচারিতাকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তাদের প্রশ্ন, তাঁরা কি এবারও বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে মিছিল করবেন, নাকি তাঁদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুধুমাত্র কারা ক্ষমতায় রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টা চাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে যে নারী নিরাপত্তাকে মূল হাতিয়ার করে ঘাসফুল শিবিরের দিকে আঙুল তোলা হয়েছিল, এবার সেই একই অস্ত্রে বিজেপিকে পাল্টা চেপে ধরতে কোমর বেঁধে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আক্রমণের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, বিজেপির নারী সুরক্ষার বার্তাটি কেবল ভোটের প্রচার বা ফাঁকা বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভোট পরবর্তী সময়ে রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত রাখতে এবং বিরোধীদের নৈতিকতার মুখে প্রশ্ন চিহ্ণ দাঁড় করাতেই শাসক দল এই কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।