কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে ভালো খবর, দিল্লি থেকে বিশ্বকে বড় ইঙ্গিত মার্কিন বিদেশসচিবের

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববাসী এক বড়সড় সুখবর পেতে চলেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং স্ট্রেট অব হরমুজ ঘিরে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার আবহে এমনই এক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর পেতে পারে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ সচল করার বিষয়ে একটি বড়সড় সমঝোতা সম্পন্ন হতে চলেছে।
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক বরফ গলার ইঙ্গিত
রবিবার সকালেই আন্তর্জাতিক স্তরে খবর ছড়ায় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শর্ত মেনে নিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ইরান। তেহরানের এই নমনীয় মনোভাবের পরই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা আসতে শুরু করে। দিল্লিতে রুবিও নির্দিষ্ট করে কোনো চুক্তির কথা খোলসা না করলেও তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানকে ঘিরে চলা দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক বিরোধ এবার মিটে যাওয়ার পথে। পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তেজনা প্রশমিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি মিলবে।
ভারত-আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত
এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইরান সংকটের পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন বিদেশসচিব ভারতকে আমেরিকার অন্যতম প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের ওপর জোর দিয়েছেন। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্ট্রেট অব হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এই পথ দিয়ে ভারতের সিংহভাগ খনিজ তেল আমদানি হয়। ফলে ইরান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং যুদ্ধ থামলে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরুজ্জীবিত হবে, যা ভারতের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে। দুই দেশের এই যৌথ অবস্থান আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।