ক্লাসে হাজিরা দিতে এবার বলতে হবে ‘জয় শ্রীরাম’? বিতর্ক ছড়াল বিজেপি নেতার মন্তব্যে

ক্লাসে হাজিরা দিতে এবার বলতে হবে ‘জয় শ্রীরাম’? বিতর্ক ছড়াল বিজেপি নেতার মন্তব্যে

কর্নাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হিজাব বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নাম ডাকার (রোল কল) সময় ‘ইয়েস স্যর’ বা ‘ইয়েস ম্যাম’-এর পরিবর্তে পড়ুয়াদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলে সাড়া দেওয়ার দাবি তুললেন বিজেপি বিধায়ক জনার্দন রেড্ডি। রাজ্যের বর্তমান কংগ্রেস সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিয়ে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পরপরই দাক্ষিণাত্যের এই রাজ্যে নতুন করে এই বিতর্ক তৈরি হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগ তুলে আসরে নেমেছে শাসক দল কংগ্রেস। আগামী জুন মাসেই কর্নাটকে গরমের ছুটি শেষে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুল-কলেজ খুলতে চলেছে, যার ঠিক আগেই এই নতুন দাবিতে শিক্ষা মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

তুষ্টিকরণের রাজনীতির পাল্টা দাবি

সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরে ঢোকার ওপর থেকে কংগ্রেস সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর বিজেপি বিধায়ক জনার্দন রেড্ডি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে কেবলই ‘সংখ্যালঘু তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ চলছে। এই প্রসঙ্গের সূত্র টেনেই তিনি দলবিরোধী কাজের জন্য বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত এবং বর্তমানে নির্দল বিধায়ক বসনগৌড়া পাতিল ইয়াতনালের একটি পুরনো সুপারিশের কথা মনে করিয়ে দেন। বসনগৌড়া এক সময় স্কুলে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সুর মিলিয়ে জনার্দন বলেন যে, স্কুলে নাম ডাকার সময় ‘ইয়েস স্যর’ বা ‘ইয়েস ম্যাম’ না বলে পড়ুয়াদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলা উচিত। এই দাবিকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে মনে করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সমস্ত পড়ুয়াকে স্কুলে গেরুয়া পাগড়ি এবং গেরুয়া চাদর পরার অনুমতিও দেওয়া হোক, কারণ ভারতীয় হিসেবে এটাই তাদের ধর্ম।

পাল্টা আক্রমণে কংগ্রেস ও সম্ভাব্য প্রভাব

জনার্দনের এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। দলের নেত্রী লাবণ্য বল্লা অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াতে চাইছে বিজেপি। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো পড়ুয়া নিজের ইচ্ছায় ‘জয় শ্রীরাম’ বলতেই পারে, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ জোর করে স্কুলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। ২০২২ সালে কর্নাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হিজাব পরাকে কেন্দ্র করে প্রথম বড়সড় বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, যার পাল্টা হিসেবে অন্য একদল পড়ুয়া গেরুয়া চাদর ও বস্ত্র পরে বিক্ষোভ শুরু করে। তৎকালীন বিজেপি সরকার স্কুলে নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম বা পোশাক বিধি বাধ্যতামূলক করলেও বর্তমান কংগ্রেস সরকার তা বদলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিজাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাল্টা হিসেবেই এবার ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি ও গেরুয়া বস্ত্রের দাবিতে নতুন করে সুর চড়াতে শুরু করল গেরুয়া শিবির, যা আগামী দিনে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *