কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে সুখবর! ট্রাম্প-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে দিল্লিতে বড় বার্তা রুবিয়োর

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে এক নজিরবিহীন ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্ব রাজনীতি। দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা বিশ্ব একটি বড় ‘সুখবর’ পেতে চলেছে। মার্কিন আধিকারিকদের এই বার্তা মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরমাণু সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়াকেই নির্দেশ করছে।
দিল্লি সফর ও কৌশলগত বৈঠক
চার দিনের ভারত সফরে এসে রবিবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশসচিব। মধ্যাহ্নভোজের এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি কূটনীতির পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয় মধ্যপ্রাচ্য তথা পারস্য উপসাগরের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করেছেন যে, আমেরিকা, ইরান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে এই শান্তি চুক্তির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
কারণ ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধের পর এই চুক্তির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন তথা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা। সফল চুক্তি রূপায়ণের মাধ্যমে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টানতে এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিষ্ক্রিয় করতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন সূত্রে দাবি। এই সমঝোতা সফল হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরার এক নতুন পথ তৈরি হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড়সড় স্বস্তি দেবে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত বলে দিল্লিতে বড় ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব।
- দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে মার্কো রুবিয়োর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ পরিস্থিতি সমাপ্ত করা এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া।
- ইরান যাতে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক খসড়ায় সেই শর্তের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে।