আলিগড়ে মাঝআকাশে বিকল ইঞ্জিন, চাষের জমিতে প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ

উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে বড়সড় আকাশ বিপর্যয় থেকে কপালজোরে রক্ষা পেল একটি প্রশিক্ষণ বিমান। মাঝআকাশে আচমকা ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিমানটিকে রানওয়ের পরিবর্তে একটি চাষের জমিতে জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন পাইলট। রবিবার সকালে আলিগড়ের ধনিপুর বিমানবন্দর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিমানটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুই পাইলটই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।
জনবসতি এড়িয়ে নিরাপদ অবতরণ
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ ধনিপুর বিমানবন্দর থেকে পাওনিয়র অ্যাভিয়েশন সংস্থার একটি প্রশিক্ষণ বিমান ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকশো ফুট উঁচুতে এর ইঞ্জিনে গোলযোগ দেখা দেয়। পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করলেও রানওয়েতে ফিরে আসার মতো পর্যাপ্ত সময় বা সুযোগ ছিল না। চরম বিপদ বুঝে পাইলট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে ফাঁকা একটি চাষের জমি বেছে নেন এবং সেখানেই বিমানটির সফল ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করান। বিকট শব্দে মাঠের মধ্যে বিমান নামতে দেখে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত বাড়ায়।
তদন্তে ডিজিসিএ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তের পর ধনিপুর বিমানবন্দরের পরিচালক সত্যব্রত জানিয়েছেন, ইঞ্জিনের কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশনকে (ডিজিসিএ) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি কারিগরি দল বিমানটির ব্ল্যাক বক্স এবং ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে দেখবে। এই ঘটনার পর প্রশিক্ষণ বিমানগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উড্ডয়ন নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরদার করার তাগিদ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়ানো যায়।