নন্দীগ্রামের ঘরের ছেলেই থাকছেন শুভেন্দু, ভবানীপুরের গুরুদায়িত্বের মাঝেও ঘরের মাঠে ভরসার বার্তা

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার নিজের ঘরের মাঠ নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। তবে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় মানুষের মনে যে উন্নয়নের গতি স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, রবিবার প্রথম জনসভা থেকেই তা উড়িয়ে দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখে তিনি আগের মতোই পাশে থাকবেন।
আসন ছাড়লেও অটুট থাকছে রাজনৈতিক সংযোগ
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, নন্দীগ্রামে ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জেতার পাশাপাশি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি মার্জিনে জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় নিয়মমাফিক নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ত্যাগ করতে হয়েছে তাকে। এই সিদ্ধান্তের কারণে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। মূলত এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত নন্দীগ্রাম সফরে আসেন তিনি। জনসভা থেকে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ২০০৩ সাল থেকে যেভাবে মানুষ তাকে পাশে পেয়েছে, আগামী দিনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আসন ছাড়লেও এলাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব বা সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো খামতি থাকবে না।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও এলাকায় প্রভাব
শুভেন্দু অধিকারীর এই আশ্বাসের পেছনে রয়েছে নন্দীগ্রামের দীর্ঘ আন্দোলন ও রাজনৈতিক সমীকরণ। ২০০৬ সালের জমি আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২১ সালের নির্বাচনে জয় এবং সবশেষে ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলার যে দাবি তিনি করেছেন, তা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখারই কৌশল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরকে নিজের হাতে রেখে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হলেও নন্দীগ্রামের মতো একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক কেন্দ্রকে হাতছাড়া করতে চান না শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থানের ফলে নন্দীগ্রামে আসন্ন উপনির্বাচনে বিজেপির অবস্থান যেমন মজবুত থাকবে, তেমনই এই অঞ্চলের প্রশাসনিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতেই পরিচালিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।