নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর হুঙ্কার, সবকিছুর হিসেব নেওয়ার হুঁশিয়ারি

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের ওপর চলা কথিত অত্যাচারের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নন্দীগ্রামে আয়োজিত একটি জনসভা থেকে কড়া ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন তিনি। কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত দিনে কর্মীদের ওপর হওয়া সমস্ত হেনস্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির পাল্টা হিসেব নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের আইন নিজের হাতে না নেওয়ার এবং সংযত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা ও তৃণমূলকে আক্রমণ
নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, একুশের নির্বাচনের পর জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীরা ব্যাপক হিংসার শিকার হয়েছেন। বহু কর্মীকে খুন হতে হয়েছে এবং অনেকের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বলেন, “আমি কিছু ভুলিনি, সবকিছুর হিসেব হবে।” তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিজেপি বিশ্বাসী নয় উল্লেখ করে তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন, তারা যেন তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হয়ে কোনো ভাঙচুর বা ইট খুলে নেওয়ার মতো কাজ না করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিজেপি এই ধরণের নীতিতে চলে না, তবে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে সমস্ত অন্যায়ের জবাব দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সেখান থেকে এই ধরণের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে একদিকে যেমন তিনি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের কর্মীদের আশ্বস্ত করতে চাইলেন, অন্যদিকে তেমনই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিলেন। এই বক্তব্যের জেরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।