আমেরিকায় কি সত্যিই বর্ণবিদ্বেষের শিকার ভারতীয়রা, দিল্লিতে মুখ খুললেন মার্কিন বিদেশসচিব!

আমেরিকায় কি সত্যিই বর্ণবিদ্বেষের শিকার ভারতীয়রা, দিল্লিতে মুখ খুললেন মার্কিন বিদেশসচিব!

নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকায় ভারতীয়দের ওপর বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি জবাব দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। রবিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর আয়োজিত এই সম্মেলনে মার্কিন ভূমে ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে ওঠা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কার্যত এই অভিযোগ নাকচ করে দেন। মার্কিন বিদেশসচিবের এই মন্তব্যের সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর মুখের মৃদু হাসি সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।

অভিযোগ খারিজ ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার তত্ত্ব

আমেরিকায় প্রবাসী ভারতীয়দের ওপর বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানান, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কিছু সংকীর্ণ মানসিকতার বা বোকা মানুষ থাকেন। তবে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো মার্কিন সমাজ বা রাষ্ট্রকে বিচার করা সমীচীন নয়। তাঁর মতে, গুটিকয়েক প্রান্তিক মানুষের নেতিবাচক আচরণ কখনই আমেরিকার সামগ্রিক চিত্রকে তুলে ধরে না এবং এর মাধ্যমে ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার গভীর কূটনৈতিক সম্পর্ককেও সংজ্ঞায়িত করা যায় না।

মার্কিন সমাজে ভারতীয়দের অবদান ও প্রভাব

মার্কিন বিদেশসচিব ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ইন্ডিয়ান-আমেরিকানরা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল, সম্মানিত এবং প্রভাবশালী সম্প্রদায়। প্রযুক্তি, ব্যবসা, চিকিৎসা ও জনসেবার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারতীয়দের অবদান অনস্বীকার্য। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মূলধারার মার্কিন সমাজে ভারতীয়রা অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুবিওর এই কৌশলী অবস্থান ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক লাইনেরই প্রতিফলন, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট। তবে এই বক্তব্য মার্কিন ভূমে বর্ণবাদের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের উদ্বেগকে কতটা প্রশমিত করতে পারবে, তা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। এই ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের নমনীয় সাফাই দুই দেশের কৌশলগত বন্ধুত্বে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেললেও, প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *