ভেঙে ফেলা হলো যুবভারতীর বিতর্কিত মূর্তি, নিজের শিল্পকর্মের পরিণতি দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মূল ফটকের সামনে থাকা দীর্ঘ বিতর্কিত মূর্তিটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা ও নিজস্ব নকশায় তৈরি এই মূর্তিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক চলছিল। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই এই কাঠামোটি অপসারণের ইঙ্গিত মিলছিল। অবশেষে শুক্রবার সেটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের তৈরি শিল্পকর্মের এমন পরিণতি দেখে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মূর্তির বিদায় ও রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এর পরই যুবভারতীতে আইএসএলের ডার্বি ম্যাচ দেখতে গিয়ে স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বারে বসানো ওই মূর্তিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। যুবভারতীর ঐতিহ্য রক্ষা করতে এই ‘বিদঘুটে’ মূর্তি সেখানে রাখা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রীর সেই মন্তব্যের কয়েকদিনের মধ্যেই প্রশাসন মূর্তিটি ভেঙে ফেলার পদক্ষেপ নেয়।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আক্রমণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পর রবিবাসরীয় দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সময় বিদেশি প্রতিনিধিরা এই মূর্তির প্রশংসা করেছিলেন এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে এটি সেলফি জোন হয়ে উঠেছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এটি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর ওপর রাগ থাকতেই পারে, কিন্তু নিজেদের স্ট্যাচু বসানোর জন্য একটি শিল্পকর্মকে এভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ক্রীড়াক্ষেত্রের একটি পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন ও বিদায়ী সরকারের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।