দশ বছর পর ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরছে, লালবাজারের কর্মীবল বাড়াতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি

কলকাতা পুলিশে তীব্র কর্মীসঙ্কট মেটাতে অবশেষে নড়েচড়ে বসল লালবাজার। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিভিন্ন জেলায় ডেপুটেশনে থাকা কলকাতা পুলিশের কর্মীদের অবিলম্বে মহানগরে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর, কনস্টেবল এবং চালকের পদে বিপুল শূন্যপদ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গোয়েন্দা বিভাগের কাজের ওপর। নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, এই প্রশাসনিক সংকট দ্রুত কাটাতে পুরনো ও অভিজ্ঞ কর্মীদের ফিরিয়ে আনাকেই একমাত্র বিকল্প পথ হিসেবে দেখছে লালবাজার।
ভাঙড়ের অন্তর্ভুক্তি ও বাড়তি চাপ
সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত হওয়ায় লালবাজারের ওপর কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অতীতে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বারবার উত্তপ্ত হওয়া ভাঙড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে ৩টি থানার বদলে ৯টি থানা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই নতুন থানাগুলো পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীর প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে এই বাড়তি চাপের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে ২২ জন অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকের নামের একটি তালিকা জমা দিয়েছে লালবাজার।
ভোটের ‘সাজা’ ও প্রথা ভাঙার রাজনীতি
এই সামগ্রিক সংকটের নেপথ্যে রয়েছে এক দশক পুরনো এক বিতর্কিত অধ্যায়। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন কলকাতা পুলিশের একাংশ। কিন্তু নির্বাচন মিটতেই তৎকালীন সরকারের আমলে সেইসব দক্ষ আধিকারিকদের কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই কলকাতা থেকে দূরবর্তী জেলাগুলোতে বদলি করে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের অধীনে চাকরি পাওয়া কর্মীদের জেলায় বদলি করা যায় না। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, ইন্সপেক্টর, সাব ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে কনস্টেবল পদমর্যাদার বহু কর্মীকে জেলার তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকের কর্মজীবন শেষ হয়েছে, আবার অনেকেই এখনও কর্মরত। রাজ্যে সরকারি পালাবদল ঘটতেই দীর্ঘ ১০ বছর পর সেই ‘শাস্তিপ্রাপ্ত’ পুলিশকর্মীদের পুনরায় কলকাতায় ফিরিয়ে এনে লালবাজারের প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্যোগ শুরু হলো।