চুরমার অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল, ফলতায় লক্ষাধিক ভোটে জিতল বিজেপি

ফলতার পুনর্নির্বাচনে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ঘাসফুল শিবিরের বহুল চর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে রেকর্ড জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। এই কেন্দ্রে বামেরা দ্বিতীয় স্থান দখল করলেও, শাসক দল তৃণমূলের স্থান হয়েছে চতুর্থ নম্বরে। এমনকি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের। ভোটের এই ফলাফল ছাব্বিশের রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পদ্মঝড়ে সাফ ঘাসফুল, দ্বিতীয় স্থানে বামেরা
ভোটের ফলপ্রকাশের শুরু থেকেই ফলতায় বিজেপির দাপট স্পষ্ট ছিল। ব্যালট পেপার এবং প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে যান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবধান আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের শম্ভুনাথ কুর্মি পেয়েছেন ৪০ Gran হাজার ৬৪৫টি ভোট। ফলে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী আবদুর রজ্জাক মোল্লা ১০ হাজার ৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির শেখ, যা শাসক শিবিরের জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর।
ভোটের সমীকরণ ও পরাজয়ের কারণ
ফলতার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পুনর্নির্বাচনের আগেই লড়াই থেকে কার্যত সরে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান, যা দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। এর পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রচারে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর আবেগঘন আবেদন ফলতাবাসী দুই হাত তুলে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দাবি করেছিলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেলে’ কেউ আঁচড় কাটতে পারবে না। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, সেই মডেল পুরোপুরি ব্যর্থ।
ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাব্য প্রভাব
এই ফলাফলের প্রভাব রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। ফলতার রায় প্রমাণ করল যে, দক্ষিণবঙ্গের এই গড় আর তৃণমূলের জন্য নিরাপদ নয়। এই জয়কে হাতিয়ার করে বিজেপি রাজ্যজুড়ে তাদের সংগঠন আরও মজবুত করার অক্সিজেন পেয়ে গেল। অন্যদিকে, বামেদের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এবং কংগ্রেসের ভোট প্রাপ্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিরোধী ভোটব্যাংক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এই পরাজয় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটাতে পারে, যা আগামী দিনে শাসক শিবিরের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।