শঙ্করের জনতার দরবারে উপচে পড়া ভিড়, প্রতিকার চেয়ে হাজির পুলিশ কর্মীও

শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচিতে মানুষের অভাব-অভিযোগের ঢল নামল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিজেপি সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কতটা বেড়েছে, এই জনতার দরবারের দীর্ঘ লাইন তারই প্রমাণ দিচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই দুই ঘণ্টার কর্মসূচিতে জমি দখল থেকে শুরু করে চাকরি দুর্নীতি এবং আবাসন প্রতারণার মতো নানা গুরুতর অভিযোগ নিয়ে হাজির হন সমাজের বিভিন্ন স্তরের শ’য়ে শ’য়ে মানুষ।
প্রতারণার শিকার পুলিশ থেকে সাধারণ মানুষ
এবারের জনতার দরবারে সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনা ছিল খোদ সরকারি চাকুরিজীবী ও পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতি। রেল পুলিশের এক এএসআই কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, বিজেপির কর্মী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েও জমি দেয়নি। অন্যদিকে, এক অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ অভিযোগ করেন, ইএম বাইপাস এলাকায় ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও বিগত তৃণমূল জমানার অত্যাচারে তিনি নিজের বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ঋণের কিস্তি শোধ করার পরও তিনি ফ্ল্যাটে ফিরতে পারেননি। এছাড়া, দ্রুত সরকারি নিয়োগের দাবি নিয়ে বহু চাকরিপ্রার্থী এই দরবারে শামিল হন। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চেপে রাখা ক্ষোভ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা এখন নতুন সরকারের ওপর ভরসা খুঁজছে।
প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
জনতার দরবারে আসা প্রতিটি অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, সমস্ত অভাব-অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তা দ্রুত নির্দিষ্ট সরকারি দফতরে পাঠানো হবে। গত ১৫ বছরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে নতুন সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়ে কাজ করবে, সেই আশ্বাসও দেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের এই জনসংযোগ কর্মসূচি একদিকে যেমন আমজনতার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ সুগম করবে, অন্যদিকে প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা পালন করবে।