হালকা হচ্ছে স্কুল ব্যাগ, কমছে পড়ুয়াদের পিঠের বোঝা

ভারী স্কুল ব্যাগের যন্ত্রণায় জেরবার খুদে পড়ুয়াদের জন্য অবশেষে স্বস্তির খবর। নতুন স্কুল ব্যাগ পলিসি অনুযায়ী এবার থেকে শিক্ষার্থীদের পিঠের বোঝা অনেকটাই হালকা হতে চলেছে। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনো পড়ুয়াই তার শরীরের মোট ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন করতে পারবে না। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদাভাবে এই ব্যাগের ওজন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
বই-খাতার সংখ্যা হ্রাস ও স্কুলে পরিশ্রুত জল
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সব বই বাড়ি থেকে বয়ে নিয়ে যেতে হবে না। স্কুলে বেশ কিছু বিষয়ের অতিরিক্ত বই রাখা থাকবে, যা দেখে শিক্ষকরা ক্লাসে পড়াবেন। একই বিষয়ের পরপর দুটি ক্লাস নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে দৈনিক বই ও খাতার সংখ্যা কমানো যায়। প্রয়োজনে শিক্ষকরা ক্লাসেই নোটস দিয়ে দেবেন।
ব্যাগের ওজন কমানোর জন্য জল ও টিফিনের ক্ষেত্রেও বড়সড় বদল আসছে। স্কুল ব্যাগে কোনো জলের বোতল রাখা যাবে না, কারণ স্কুলেই পরিশ্রুত পানীয় জলের সুব্যবস্থা থাকবে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা থাকায় বাড়ি থেকে টিফিন নেওয়ার প্রয়োজন কমবে। তবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে টিফিনের বিষয়টিকে মাথায় রেখে ব্যাগের ওজন কিছুটা বেশি ধার্য করা হয়েছে। নিয়মিত ব্যাগের ওজন পরীক্ষার জন্য প্রতিটি স্কুলে ওজন মাপার যন্ত্র রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হোমওয়ার্কেও বড় বদল
নতুন এই নীতিতে শুধু ব্যাগের ওজন নয়, মানসিক চাপ কমাতেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য কোনো হোমওয়ার্ক বা বাড়ির কাজ দেওয়া যাবে না। এর পরবর্তী ক্লাসগুলোতে বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী দৈনিক সর্বোচ্চ এক থেকে দুই ঘণ্টার হোমওয়ার্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
শারীরিক ও মানসিক চাপ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের শৈশবকে আনন্দময় করে তুলতেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন খুদে পড়ুয়াদের হাড় ও মেরুদণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ও মানসিক বিকাশ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।