ফের বন্দিদশা, দেশে দেশে বিষদাঁত বের করছে ইবোলা ভাইরাস, সতর্কতা জারি ভারতেও

ফের বন্দিদশা, দেশে দেশে বিষদাঁত বের করছে ইবোলা ভাইরাস, সতর্কতা জারি ভারতেও

বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মারাত্মক মারণ ভাইরাস ইবোলা। ইতিমধ্যে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনা করে একে গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ মারণ রূপ ধারণ করায় নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার। দেশে এখনও পর্যন্ত কোনো সংক্রমণ ধরা না পড়লেও দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সমস্ত প্রবেশপথে নজরদারি ও প্রোটোকল চরম কঠোর করা হয়েছে।

আফ্রিকার কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাস সবচেয়ে ভয়ংকর আকার নিয়েছে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক একটি বিশেষ নির্দেশিকা (SOP) জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সাথে ওই দেশগুলির সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিকেও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিমানবন্দর ও বন্দরে কঠোর নজরদারি

সংক্রমণ রুখতে দেশের বিমানবন্দর ও বন্দরগুলিতে ত্রিস্তরীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আক্রান্ত দেশগুলি থেকে আসা যাত্রীদের গত ২১ দিনের ভ্রমণের ইতিহাস কঠোরভাবে পরীক্ষা করছেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। সমস্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ‘এয়ার সুবিধা’ পোর্টালে বা সরাসরি বিমানবন্দরে সেলফ ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম (SDF) জমা দেওয়া এবং বাধ্যতামূলক থার্মাল স্ক্রিনিং করা জরুরি করা হয়েছে। ঝুঁকি অনুযায়ী যাত্রীদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—

  • ক্যাটাগরি ওয়ান (কম ঝুঁকি): উপসর্গহীন যাত্রীরা ২১ দিন বাড়িতে নিজেদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করবেন।
  • ক্যাটাগরি টু (মাঝারি ঝুঁকি): উপসর্গহীন কিন্তু আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হবে।
  • ক্যাটাগরি তিন (উচ্চ ঝুঁকি): সরাসরি উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে নির্ধারিত আইসোলেশন হাসপাতালে পাঠানো হবে।

উড়ান চলাকালীন কোনো যাত্রী অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে বিমানের পিছনের সারিতে সরিয়ে নেওয়া, আলাদা শৌচাগার নির্দিষ্ট করা এবং পিপিই কিট ব্যবহারের মতো কঠোর প্রোটোকল মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এয়ারলাইনস কর্মীদের।

চিকিৎসা প্রস্তুতি ও ভাইরাসের লক্ষণ

ভারতে পুনের ICMR-NIV গবেষণাগারে ইবোলা (Bundibugyo strain) পরীক্ষার বিশেষ সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নেগেটিভ প্রেসার আইসোলেশন রুম এবং সর্বক্ষণের অক্সিজেন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে। চিকিৎসায় রক্তপাতের ঝুঁকি থাকায় অ্যাসপিরিন বা এনএসএআইডি (NSAIDs) জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, ইবোলা ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ হলো হঠাৎ তীব্র জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং গলা ব্যথা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি গুরুতর হলে বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, শরীরে ফুসকুড়ি, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া এবং চোখ লাল হয়ে নাক, মুখ বা মলদ্বার দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত হতে পারে। এই মারাত্মক লক্ষণ ও উচ্চ মৃত্যুহারের কারণেই বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসকে ঘিরে নতুন করে লকডাউন বা বন্দিদশার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *