অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ, এবার জেলায় জেলায় তৈরি হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার

রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবগঠিত রাজ্য সরকার। নির্বাচনী প্রচারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ ফর্মুলা নিয়ে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সীমান্ত পার করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে এবার প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অবৈধ নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই বিশেষ সেন্টারে পাঠানো হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রের আইন এবার রাজ্যে কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে বিএসএফ নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
কারা থাকবেন হোল্ডিং সেন্টারে
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যে সমস্ত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। এর পাশাপাশি, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার বা জেল থেকে যে সব অনুপ্রবেশকারী সাজা শেষে মুক্তি পাবেন, সরাসরি তাদেরও এই সেন্টারে নিয়ে আসা হবে। সেখান থেকেই শুরু হবে তাদের ডিপোর্ট বা বিতাড়ন করার প্রক্রিয়া।
আইনি ভিত্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিশাল প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া একটি বিশেষ নির্দেশ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা ভারতে এসেছেন এবং এই আইনের আওতায় পড়েন, তারা বৈধ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। তবে যারা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন, মূলত ওপার বাংলার সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাদেরই এই প্রক্রিয়ায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের ওপর নজরদারি যেমন বাড়বে, তেমনই অবৈধভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।