কলকাতায় এবার যোগী মডেল, ৬ জায়গায় বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বুলডোজার

কলকাতায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন ও আগ্রাসী অভিযানে নামল প্রশাসন। তিলজলা, বেলেঘাটা, কসবা, বালিগঞ্জ, উল্টোডাঙা এবং বেহালা সহ মহানগরের মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রবিবার সকাল থেকেই একযোগে শুরু হয়েছে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ। শাসকদল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই রাজ্য থেকে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ উপড়ে ফেলার যে বার্তা দিয়েছিল, এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তিলজলা থেকে বালিগঞ্জ, টার্গেটে প্রভাবশালীরা
প্রশাসনের এই মেগা অভিযানে শুধু সাধারণ বেআইনি বহুতলই নয়, রেহাই পায়নি রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের তৈরি করা অবৈধ কাঠামোও। বেলেঘাটার ত্রাস হিসেবে পরিচিত রাজু নস্কর এবং বালিগঞ্জের কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর তৈরি করা বেআইনি বহুতলে এদিন সকালেই বুলডোজার চালানো হয়। অন্যদিকে, তিলজলায় তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানের ছেলে ফাইয়াজ খানের বেআইনি নির্মাণও গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুরসভা। কসবায় বোসপুকুর এলাকায় একটি বহুতল ভাঙার কাজ তদারকি করতে খোদ পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সশরীরে হাজির হন।
কড়া বার্তার নেপথ্যে কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোনা পাপ্পু, রাজু নস্কর কিংবা জাভেদ খানের ছেলের মতো প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর অভিযোগ, বিগত সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই সমস্ত বেআইনি কাজ দেখেও চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। এই অভিযানের মূল কারণ হলো শহরের বুকে গজিয়ে ওঠা অবৈধ ও বিপজ্জনক আবাসন সিন্ডিকেটকে সমূলে বিনষ্ট করা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু বাড়ি ভাঙাই নয়, এই সমস্ত অবৈধ প্রজেক্টে যারা টাকা ঢেলেছেন এবং যারা এর পেছনে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এই অভিযানের ফলে আগামীদিনে কলকাতার আবাসন শিল্পে বেআইনি প্রোমোটিংয়ের রমরমা অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে একটি কড়া বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।