মোদী ঝালমুড়ি খেতেই কাল হলো, ঝাড়গ্রামের বিক্রেতাকে খুনের হুমকির জেরে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী!

নির্বাচনী প্রচারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আকস্মিক ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই পরিচিত মুহূর্তটি যে একজন সাধারণ হকারের জীবনে এমন বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম কুমার সাউকে লাগাতার খুনের ও বোমা মেরে তাঁর দোকান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভয়াবহতা ও সংবেদনশীলতা বিচার করে প্রশাসনের তরফ থেকে ওই ঝালমুড়ি স্টলের সুরক্ষায় ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো চত্বরটি ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারিতে রাখতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্রম এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
হুমকির নেপথ্যে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, এই হুমকির নেপথ্যে গভীর কোনো আন্তর্জাতিক যোগসূত্র থাকতে পারে। বিক্রম বাবুর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এবং সরাসরি ফোনে লাগাতার এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি পাঠানো বার্তায় আগ্নেয়াস্ত্রের ছবিও প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে সমস্ত নম্বর থেকে ফোন ও মেসেজ এসেছে, তার বেশ কয়েকটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কান্ট্রি কোডের সঙ্গে যুক্ত। আন্তর্জাতিক এই হুমকির রহস্যভেদ করতে এবং এর উৎস খুঁজে বের করতে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আপাতত ডিজিটাল নথি ও কল রেকর্ডস (CDR) খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ভাইরাল খ্যাতিই যখন জীবনের ঝুঁকি
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে আচমকাই গাড়ি থামিয়ে বিক্রম বাবুর দোকানে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি কেনেন এবং বিক্রমের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ গল্পও করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একজন সাধারণ হকারের এই সহজ কথোপকথনের ভিডিওটি রাতারাতি দেশজুড়ে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিক্রম বিপুল পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু সেই ভাইরাল খ্যাতিই এখন তাঁর জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সুপরিকল্পিত হুমকি আসতে শুরু করায় এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নাকি কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসা বিজেপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই হুমকির ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেন, কিছু দেশবিরোধী ও অশুভ শক্তি দেশে অশান্তি ও উত্তেজনা তৈরি করার জন্য এই ধরনের হীন চেষ্টা চালাচ্ছে, এদের রেয়াত করা হবে না। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিকভাবে চর্চিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মধ্যে, ঝাড়গ্রামের এই সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতার নিরাপত্তা এখন প্রশাসনের কাছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।