ফলতায় ভরাডুবি তৃণমূলের, শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করে ‘হার-বার মডেল’ নাম দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে গেল। ভোটগণনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার লক্ষাধিক ভোটে জয় নিশ্চিত হতেই সমাজমাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের বহুল চর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে কটাক্ষ করে তিনি একে ‘হার-বার মডেল’ বলে অভিহিত করেছেন। সরাসরি নাম না নিলেও তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট।
পরাজয়ের কারণ ও শুভেন্দুর তোপ
নির্বাচনী ফলাফলের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে থাকা বামফ্রন্ট প্রার্থীর থেকে এক লক্ষ আট হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন। এই বিপুল জয়ের জন্য ফলতার ভোটারদের নতমস্তকে প্রণাম ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে ফলতার মানুষের কাছে এক লক্ষ ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর আবেদন করেছিলেন তিনি, জনতা সেই আশা পূরণ করেছে।
পূর্বতন শাসকদলকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিগত লোকসভা নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং থ্রেট কালচারের মাধ্যমে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এবার দীর্ঘ ১৫ বছর পর মানুষ যখন নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছেন, তখনই বাস্তব চিত্রটি সামনে এসেছে। ভোটের মাত্র দু’দিন আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হওয়াকেও শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও কারচুপির ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। ইভিএমে নাম থাকায় তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৭,৭৮৩টি ভোট পেয়েছেন।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি ‘নীতি-আদর্শহীন দল’ এবং ‘মাফিয়া কো ম্পা নি’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা হারাতেই এই দলের কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। এই ফলাফলের পর রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এটি কেবল প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘ যাত্রার শুরু। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মূল লড়াই আর বিজেপির সঙ্গে নয়, বরং ‘নোটা’ (NOTA)-র বিরুদ্ধে হবে। অতীতে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল যেভাবে নোটার কাছে পরাজিত হয়েছিল, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই জয়ের পর ‘সোনার ফলতা’ গড়ার লক্ষ্যে এবং উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।