লালকেল্লার বিস্ফোরণে এবার এআই যোগ, ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটি দেখে তৈরি হয়েছিল মারণ রকেট!

দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে নেমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার নেপথ্যে থাকা সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরক তৈরির খুঁটিনাটি জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করেছিল। আল-কায়েদার একটি ছায়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিরা চ্যাটজিপিটি এবং ইউটিউব ব্যবহার করে ইম্প্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) রকেট তৈরি করেছিল বলে এনআইএ-র চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ও জঙ্গিদের মহড়া
তদন্তকারীদের দাবি, বিস্ফোরক রকেট তৈরির সঠিক পদ্ধতি এবং রাসায়নিক মিশ্রণের অনুপাত জানতে অভিযুক্তেরা এআই প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিয়েছিল। এই প্রযুক্তির সহায়তায় রকেট তৈরি করার পর জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কাজ়িগুন্ড জঙ্গলে সেটির পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণও চালানো হয়। এনআইএ ওই জঙ্গল থেকে আইইডি রকেটের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লালকেল্লার সামনে সেই মারণাস্ত্রেরই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার ফলে চালকের আসনে থাকা মূল অভিযুক্ত উমর নবিসহ মোট ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং সাত জন গুরুতর জখম হন।
নেপথ্যের নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
এনআইএ-র অভিযোগপত্রে ‘আনসার গাজ়ওয়াত-উল-হিন্দ’ নামক সন্ত্রাসী মডিউলের ‘ইঞ্জিনিয়ার’ জসির বিলাল ওয়ানির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই জসিরই হামলার মূল প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল এবং অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লিপকার্ট’ থেকে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিন ডিভাইস অর্ডার করেছিল, যার অর্থায়ন করেছিল উমর নবি। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জসির হরিয়ানার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিকবার যাতায়াত করেছিল এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন চিকিৎসকের এই হামলার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
উন্মুক্ত এআই প্রযুক্তি এবং সাধারণ ইন্টারনেট মাধ্যমকে ব্যবহার করে যেভাবে ঘরে বসেই মারাত্মক অস্ত্র তৈরি ও হামলার ছক কষা হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন এবং অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। সাধারণ প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার ভবিষ্যতে সাইবার নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষানীতি পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।