ভোটলুটের অভিযোগে সরব মমতা, নাম না করে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুকে

ভোটলুটের অভিযোগে সরব মমতা, নাম না করে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুকে

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দীর্ঘ ২০ দিন পর এক বিস্ফোরক ও বিশ্লেষণধর্মী বার্তায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর এতদিন নীরবতা বজায় রাখলেও, রবিবার ফলতা উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিনে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তৃণমূলনেত্রীর স্পষ্ট দাবি, নির্বাচনে তৃণমূল হারেনি, বরং নির্বাচন কমিশনের একাংশের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে ডেটা হ্যাকিং এবং ভোটলুটের মাধ্যমে তাদের হারানো হয়েছে। প্রায় দেড়শ আসনে জেতার জায়গা পরিবর্তন করে পাশা উল্টে দেওয়া না হলে তৃণমূল ২২০ থেকে ২৩০টি আসন পেত বলে দাবি করেছেন তিনি।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রহসন আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে রাজ্য থেকে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে তৃণমূল লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম পুনর্বহাল করতে সক্ষম হয়। এছাড়া সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশনের অফিস থেকে ‘ডেটা হ্যাকিং’ করা এবং বিজেপির কর্মীদের সিআরপিএফের পোশাক পরিয়ে গণনা কেন্দ্রে ঢোকানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার পরেও সেখানে এজেন্টদের আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভোটলুট করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আবহ

বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে রাজ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী দলের উপর নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় ১২ জন মানুষের মৃত্যু এবং অনেকের আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০ দিন ধরে এই পরিস্থিতি তিনি মুখ বুজে সহ্য করেছেন। লুম্পেন ও বহিরাগতদের ব্যবহার করে তৃণমূলের প্রায় ২ হাজার কার্যালয় দখল, নির্বাচিত পুরপ্রতিনিধিদের জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো এবং পুলিশের সাহায্যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারির মাধ্যমে কলকাতা কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর আমলে গঠিত ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশের পাশাপাশি বিজেপি সরকারের ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন সংক্রান্ত ঘোষণাগুলো তৃণমূল আমলেরই পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিশ্লেষণধর্মী ও আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে উত্তপ্ত করতে পারে। আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার পাশাপাশি এই ইভিএম ফরেনসিক রিপোর্টের দাবি তৃণমূল কর্মীদের আইনি ও রাজনৈতিকভাবে পুনরায় সংগঠিত করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, এই তীব্র অভিযোগের ফলে আগামী দিনগুলোতে শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *