২৮ বছর পর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, হ্যালান্ডদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করলেন স্বয়ং নরওয়ের রাজা

দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। আর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে ফুটবল দুনিয়া দেখল এক নজিরবিহীন ঘটনা। সাধারণত কোচ বা ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা দল ঘোষণা করলেও, নরওয়ের ক্ষেত্রে চেনা ছক ভাঙা হলো। দেশের ৮৯ বছর বয়সি রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড নিজে মুখে পড়ে শোনালেন এর্লিং হ্যালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডদের নাম। রাজকীয় এই কায়দায় দল ঘোষণা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে নরওয়ে। সেবার শেষ ষোলোয় ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। দীর্ঘ তিন দশক পর এবারের দলে বিশ্বমানের তারকাদের উপস্থিতি নরওয়েকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
তারকাখচিত স্কোয়াড ও শক্তির ভারসাম্য
কোচ স্টেল সোলবাকেনের ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় তারকা ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন এর্লিং হ্যালান্ড। তাঁর সঙ্গে মাঝমাঠের দায়িত্বে থাকছেন আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। নরওয়ের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করতে দলে রয়েছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার সরলথ, যিনি চলতি মরসুমে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। এ ছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা সান্ডার বের্গে, অস্কার বব এবং ক্রিস্টোফার আজেরের মতো একঝাঁক অভিজ্ঞ ফুটবলার স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন।
দল নির্বাচন নিয়ে কোচ সোলবাকেন জানান, মাঠ এবং মাঠের বাইরে দলের বোঝাপড়া অত্যন্ত চমৎকার। দল গড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে কিছু ভালো ফুটবলারকে বাদ দিতে হয়েছে, যা সবসময়ই বেদনাদায়ক।
চ্যালেঞ্জ ও আগামী দিনের প্রভাব
১৬ জুন বোস্টনে ইরাকের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ সেনেগাল ও শক্তিশালী ফ্রান্স। অতীতে বারবার ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হলেও, এবার গ্রুপ পর্বে ইতালি না থাকা নরওয়ের জন্য কিছুটা স্বস্তির।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজার হাত ধরে দল ঘোষণার এই অভিনব প্রয়াস ফুটবলারদের মানসিক শক্তি ও দেশাত্মবোধ অনেক বাড়িয়ে দেবে। হ্যালান্ড ও ওডেগার্ডের মতো বিশ্বমানের তারকাদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে যদি গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারে, তবে তা বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে নতুন শক্তির উত্থান ঘটাবে।