ভুটানের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আলিপুরদুয়ার, ১০ সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বহু গ্রাম

ভুটানের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আলিপুরদুয়ার, ১০ সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বহু গ্রাম

ভুটান পাহাড়ের অতিবৃষ্টির জেরে ভরা বর্ষা নামার আগেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা। শুক্রবার রাত থেকে ভুটান পাহাড়ে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির কারণে তোর্ষা, কালজানি, বাসরা, মুজনাই ও পানা নদীর জলস্তর একধাক্কায় মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। নদীর তীব্র জলস্রোতে জেলার অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সাঁকো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। এর ফলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বহু গ্রাম বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও নৌকা এখন পারাপারের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপর্যস্ত যোগাযোগ ও থমকে যাওয়া অর্থনীতি

শনিবার ভোররাতে কালজানি নদীর তীব্র জলস্রোতে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের তপসিখাতা ও উত্তর চকোয়াখেতি এলাকার দুটি বড় সাঁকো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। আপদকালীন পরিস্থিতিতে প্রশাসন নৌকার ব্যবস্থা করলেও উত্তাল নদীতে পারাপার করতে গিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা। এই দুই এলাকার মানুষকে আগামী কয়েক মাস দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে।

দুর্যোগের জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও এলাকায় মুজনাই নদীর ওপর থাকা চারটি বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় দেওগাঁও, বেলতলি, নবনগর ও ৫ মাইল এলাকার কৃষকরা খেতের সবজি নিয়ে জটেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক হাটে পৌঁছতে পারেননি। অন্যদিকে, বঙ্কিমঘাটের পাকা সেতুর পাশে তৈরি অস্থায়ী ডাইভারশনটি ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জেলা শাসক ও পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অর্ধনির্মিত পাকা সেতুর ওপর লোহার পাত বিছিয়ে সাময়িকভাবে হেঁটে পারাপারের ব্যবস্থা করেন।

চা বাগান বিচ্ছিন্ন ও জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা

কালচিনি ব্লকে কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টি ও মেঘভাঙা পরিস্থিতির জেরে বাসরা ও পানা নদীর জলস্ফীতি ঘটে। এর ফলে ভুটান সীমান্ত ঘেঁষা সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা বাগান পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জয়গাঁ ও কালচিনির থেকে। এছাড়া সীমান্ত শহর জয়গাঁর এনএস রোড সহ একাধিক ওয়ার্ড এবং পুরোনো হাসিমারার সার্ক রোড জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কালচিনির মোদীলাইন ও মালিবাড়িতে নিকাশি নালা উপচে জল ঢুকে পড়েছে ঘরবাড়িতে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিধায়ক ও সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। নদীগুলির জলস্তর বর্তমানে কিছুটা কমলেও নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ডুয়ার্সের মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *