বারামুলায় গুঁড়িয়ে গেল জঙ্গি ঘাঁটি, উপত্যকায় পুলওয়ামা ধাঁচে বড়সড় নাশকতার ছক ব্যর্থ

জম্মু ও কাশ্মীরে আবারও এক বড়সড় জঙ্গি হামলার চক্রান্ত নস্যাৎ করল নিরাপত্তাবাহিনী। পুলওয়ামার ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কায়দায় উপত্যকায় নতুন করে রক্তবন্যা বইয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনা ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলায় একটি গোপন জঙ্গি ঘাঁটির সন্ধান পেয়ে তা গুঁড়িয়ে দিয়েছে যৌথ বাহিনী। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র ও ঘাতক বিস্ফোরক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র উপত্যকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
যৌথ বাহিনীর অভিযান ও বিস্ফোরক উদ্ধার
বারামুলার চান্দোসা এলাকায় জঙ্গিদের একটি দল গোপনে আস্তানা গেড়েছে, এমন নির্দিষ্ট খবর আসে প্রশাসনের কাছে। এরপরই বারামুলা পুলিশ, সিআরপিএফ (CRPF) এবং সেনাবাহিনীর ৫২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস যৌথভাবে ওই এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান চালায়। পুরো এলাকাটি কর্ডন করে তল্লাশি চালাতেই জঙ্গিদের গোপন আস্তানাটির সন্ধান মেলে। নিরাপত্তাবাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়ে জঙ্গিরা ঘাঁটি ছেড়ে পালালেও, সেখান থেকে উদ্ধার হয় বিপুল যুদ্ধাস্ত্র। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৪টি ওজি-৭ভি (OG-7V) এবং ৯টি পিজি-৭পি (PG-7P) রকেট চালিত গ্রেনেড ও বিস্ফোরক। উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র সাধারণত রুশ সেনাবাহিনী ব্যবহার করে থাকে। ফলে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগসূত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সীমান্ত জুড়ে ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’ এবং সম্ভাব্য প্রভাব
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের পরিমাণ ও ধরন ইঙ্গিত করছে যে কোনো সামরিক কনভয় বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল জঙ্গিরা। সময়মতো এই ঘাঁটিটি ধ্বংস না করা গেলে উপত্যকায় পুনরায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। বারামুলার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজৌরি সীমান্তের গম্ভীর মুঘলান জঙ্গলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেখানে অন্তত ৩ জন পাকিস্তানি জঙ্গি আত্মগোপন করে আছে এমন খবরের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’। দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা এই অঞ্চলে জঙ্গিদের খোঁজে নামানো হয়েছে অত্যাধুনিক ড্রোন ও নাইট ভিশন নজরদারি প্রযুক্তি। ভারতের এই সীমান্ত অঞ্চলে চিরুনি তল্লাশি জারি থাকায় আগামী দিনগুলিতে ভারত-পাক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LoC) সামরিক সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।