ছাব্বিশের ভরাডুবির জের, জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি, নিশানায় আইপ্যাক!

ছাব্বিশের ভরাডুবির জের, জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি, নিশানায় আইপ্যাক!

চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে বড়সড় রদবদল তৃণমূলের অন্দরে। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর এবার বারাসাত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা তথা বারাসাত ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর রবিবার দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করার পাশাপাশি চিঠিতে নাম না করে দলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে তীব্র আক্রমণ করেছেন বারাসাতের সাংসদ।

ক্ষোভের নেপথ্যে জোড়া ধাক্কা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ

দিন কয়েক আগেই লোকসভার চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতকের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের জায়গায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। পদ হারানোর পরেই সমাজমাধ্যমে চার দশকের আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি বারাসাতে দলের পরাজয়ের নৈতিক দায় নেওয়ার পাশাপাশি দলের সাম্প্রতিক দুর্নীতি নিয়ে স্পষ্ট সরব হয়েছেন।

পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব ও ভুঁইফোড় সংস্থার তত্ত্ব

দলীয় স্তরে তৈরি হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার আবেদন করেছেন, দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বিগত দিনের মতো সৎ, পুরনো এবং নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়েই কাজ করা উচিত। সরাসরি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর নাম না নিলেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ‘ভুঁইফোড় সংস্থা’র দ্বারা কঠিন রাজনৈতিক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার সিংহভাগ আসনে দলের বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে এই বহিরাগত এজেন্সির ভুল কৌশলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেয়েছেন তিনি।

ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট নেত্রীর এই ইস্তফা এবং ক্ষোভ প্রকাশ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল ও সমন্বয়হীনতাকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল। একদিকে দুর্নীতি ও নির্বাচনী ভরাডুবির দায়, অন্যদিকে পেশাদার ভোটকুশলী সংস্থার সঙ্গে পুরনো কর্মীদের তৈরি হওয়া দূরত্ব— এই জোড়া ফলায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বারাসাত ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক রাশ আগামী দিনে কার হাতে যায় এবং আইপ্যাক নির্ভরতা নিয়ে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এই বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে সামাল দেন, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *