ভাঙল ডায়মন্ড হারবার মডেল, অভিষেককে মাছ-ভাত খাওয়ার আমন্ত্রণ দেবাংশুর

গোটা রাজ্যের নির্বাচনী আবহে বড়সড় ওলটপালট ঘটে গেল ফলতায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ ভেঙে চুরমার করে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেই তৃণমূল নেতৃত্বকে তীব্র রাজনৈতিক বাণ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন অভিষেকের করা একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী এবার সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ফলতায় এসে মাছ-ভাত খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
পাল্টে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ
ফলতায় এবার শাসকদলের বিপর্যয় এতটাই তীব্র যে তৃণমূল প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। জয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা দাবি করেন, দীর্ঘ এক থেকে দেড় দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন বলেই এই অভাবনীয় পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। ফলতা আর কারও চোখরাঙানিতে চলবে না এবং এলাকায় শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যঙ্গাত্মক আমন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ভোটের প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী শিবিরের উদ্দেশ্যে ‘ঘাড় ধরে মাছ বিক্রি করাব’ সহ একাধিক কড়া মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। ফলাফল প্রকাশের পর সেই মন্তব্যেরই পালটা জবাব দিয়েছেন দেবাংশু। তিনি জানান, রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফলতায় এসে মাছ-ভাত খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই ফল প্রকাশ্যেই শাসকদলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং বিকল্প শক্তির উত্থানকে স্পষ্ট করছে। এই জয়ের পর এলাকায় নতুন করে কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। একই সঙ্গে তৃণমূলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত মেলায় আগামী দিনে অঞ্চলের আইনশৃঙ্খল ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে।