ফলতায় তৃণমূলকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বামেরা, বিজেপির জয়ের পরেও হাসিমুখ সেলিমের!

ফলতায় তৃণমূলকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বামেরা, বিজেপির জয়ের পরেও হাসিমুখ সেলিমের!

দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তবে গেরুয়া শিবিরের এই জয়ের চেয়েও রাজনৈতিক মহলে বেশি চর্চা হচ্ছে তৃণমূলকে চার নম্বরে ঠেলে সিপিএমের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা নিয়ে। এই ফলাফলের পর বাম কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি খোদ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের মুখেও চওড়া হাসি দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফল রাজ্যের বাম শিবিরের জন্য এক নতুন অক্সিজেন।

ফলতার এই পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের শম্ভুনাথ কুড়মিকে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে পরাজিত করেন। সিপিএম প্রার্থী পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা ১০ হাজার ৮৪টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। ভোটগ্রহণের মাত্র দুদিন আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করায় দলটির ঝুলি মাত্র ৭৭৮৩ ভোটে থমকে গেছে, যার ফলে তারা চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে।

বামপন্থার পুনরুত্থানের ইঙ্গিত

এই ফলাফল সামনে আসতেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ফলতার সাধারণ মানুষ, দলের প্রার্থী ও কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় মুখে হাসি নিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলায় মানুষের যদি সঠিকভাবে মত দেওয়ার সুযোগ থাকে এবং গণতন্ত্র ফিরে আসে, তবে বামপন্থার পুনরুত্থান নিশ্চিত। ফলতার এই ফল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব

নির্বাচনী ময়দানে তৃণমূল প্রার্থীর আকস্মিক সরে দাঁড়ানো এবং বিজেপির বড় ব্যবধানে জয়লাভের পেছনে শাসকবিরোধী ভোটের মেরুকরণকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বামেদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, তৃণমূলের অনুপস্থিতি বা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ফলতার এই দ্বিতীয় স্থান বাংলার রাজনীতিতে বামেদের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। বাম শিবিরের আশা, এই ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে তারা রাজ্যে আবার প্রধান বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *