অভিমান থেকে এবার চরম সিদ্ধান্ত, দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে পদত্যাগ করলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

অভিমান থেকে এবার চরম সিদ্ধান্ত, দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে পদত্যাগ করলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা অভিমানী পোস্ট কিংবা বাড়ির সামনে আচমকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল তুঙ্গে। অবশেষে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এবার আর শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ নয়, সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক করে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন তিনি।

তৃণমূলের নব্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব কাকলি

রবিবার এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে প্রবীণ এই নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এই পদত্যাগের পেছনে কেবল পদের মোহভঙ্গ নয়, বরং দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতির প্রতি তীব্র অনীহা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বক্তব্যে। দলের ‘নব্য’ নেতাদের লক্ষ্য করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ২০১১ সালের পর যারা ‘মধু সংগ্রহ’ করতে এসেছেন, সেই সব ভুঁইফোড় নেতাদের ফেসবুকের মন্তব্য আর সহ্য করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বিগত ৫-৭ বছরে দলে যে অভূতপূর্ব বৈভব ও অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

দলের অন্দরে ক্ষোভের কারণ ও হারের বিশ্লেষণ

সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় দলের আশানুরূপ ফল না হওয়ার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবিকে খণ্ডন করে তিনি পরাজয়ের যে কারণ ব্যাখ্যা করেছেন, তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেখানে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট লুঠের অভিযোগ তুলছেন, সেখানে কাকলি বাবুর দাবি—দলের মধ্যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে, নেতাদের অহমিকা বেড়ে গিয়েছিল এবং অসৎ আচরণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যে এই ঔদ্ধত্য ও বৈভব পছন্দ করেনি, গণতন্ত্রে ভোটাররা সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও শাসক শিবিরের প্রতিক্রিয়া

তৃণমূলের চার দশকের অনুগত এই নেত্রীর আচমকা পদত্যাগ এবং প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ লোকসভা ভোটের পর শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সাংগঠনিক নেতৃত্বের এই শূন্যতা দলকে নতুন সমীকরণের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বিস্ফোরক পদক্ষেপের পর দলের অন্দরে আদি বনাম নব্য দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদিও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ দলীয় নেতৃত্ব। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এই মুহূর্তে পদত্যাগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হবে না; সময়মতো দলের পক্ষ থেকেই বিস্তারিত জানানো হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *