কোরবানি বিতর্ক, সেলিম ও বিকাশের চেয়ে উল্টো সুর সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুরের!

কোরবানি বিতর্ক, সেলিম ও বিকাশের চেয়ে উল্টো সুর সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুরের!

পশ্চিমবঙ্গে বকর ইদের কোরবানি এবং পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা নিয়ে বাম শিবিরের অন্দরেই এবার ভিন্ন সুরের আভাস মিলল। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কড়াকড়িভাবে প্রয়োগ করতে চাইছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যখন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং প্রবীণ নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সরব হয়েছেন, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা কিছুটা ভিন্ন ও বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, এই আইন নতুন নয়, বরং আগের সরকার তা কঠোরভাবে লাগু করেনি।

আইন বনাম ভিন্ন সুর

মুর্শিদাবাদে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান সরকার কোনও নতুন আইন তৈরি করেনি, বরং ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটিই এখন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এবার আর আগের মতো যত্রতত্র কোরবানি করা যাবে না, সবাইকে বুঝেশুনে এবং নিয়ম মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জেলার প্রতিটি থানায় বৈঠক করে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি নিয়মকে মান্যতা দিয়েই কোরবানির প্রস্তুতি নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।

সরকারি নির্দেশিকা ও রাজনৈতিক তরজা

গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী শুধুমাত্র পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন থাকলেই পশু জবাই করা যাবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে অথবা সেটিকে কাজের ও প্রজননের অযোগ্য বলে প্রত্যয়িত হতে হবে। এছাড়াও, প্রকাশ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে নির্দিষ্ট কসাইখানা বা অনুমোদিত স্থানেই কোরবানি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশিকার জেরে গ্রামীণ অর্থনীতি ও গবাদি পশু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মহম্মদ সেলিম ও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিরোধিতার মাঝেও বিধায়ক মুস্তাফিজুরের আইনি অবস্থানকে মেনে নেওয়ার বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *