পদ ছাড়লেন, তারপরই বিস্ফোরণ! সুব্রত বক্সীকে লেখা কাকলির চিঠি ঘিরে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটল। বারাসাত সংসদীয় জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রবীণ সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে পাঠানো তাঁর সেই ইস্তফাপত্র ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ পদ থেকে সম্প্রতি তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ার পরই খোদ রাজ্য সভাপতির কাছে চিঠি লিখে বারাসাতের সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন কাকলি।
ইস্তফাপত্রে পরাজয়ের নৈতিক দায় নেওয়ার কথা বলা হলেও, পরোক্ষে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়ে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, বিগত দিনের মতো নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। একই সাথে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখানে ভুঁইফোঁড় সংস্থা বলতে তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কেই নিশানা করেছেন।
নেতৃত্বের নীতি ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ
দলীয় নেতৃত্বের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্যে সাম্প্রতিক অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়েও চিঠিতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সুব্রত বক্সীকে তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, শিষ্টাচার এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনে বারাসাত জেলায় দলের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার নৈতিক দায় নিয়েই তিনি জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন।
ইস্তফা দেওয়ার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেন, দলনেত্রী গত দশ বছর ধরে ব্যস্ত থাকায় তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি এবং সেই কারণে তিনি আগে অভিযোগ জানাতে পারেননি। তবে সাংবাদিক সম্মেলনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাইভ বার্তা নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করে তিনি লেখেন, হাল ধরো নেত্রী।
রাজনৈতিক সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত
দলের এই রদবদলের মাঝেই কিছুদিন আগে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দেওয়ালে একটি রহস্যময় পোস্ট দেখা যায়। জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, অটল বিহারী বাজপেয়ী থেকে শুরু করে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মতো প্রধানমন্ত্রীদের ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, এঁদের সংসদে দেখার সুযোগ তাঁর হয়েছিল। পদ হারানোর পর এই পোস্ট নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, ঠিক তখনই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নিরাপত্তা বাড়িয়ে ওয়াই প্লাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
নির্বাচনে হারের পর দলের স্ট্র্যাটেজি এবং নতুনদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার নীতিকে প্রবীণ নেত্রী যে কোনওভাবেই মেনে নিচ্ছেন না, তা এই পদত্যাগ এবং চিঠির ভাষায় পরিষ্কার। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার পর রাজ্যের এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে এবং দলের অন্দরে এর কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।