প্রতিরক্ষা বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এক মঞ্চে ভারত ও রাশিয়া!

নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে অনুষ্ঠিত হলো দুই দেশের সেনাবাহিনীর ৫ম সাব ওয়ার্কিং গ্রুপ (ল্যান্ড) বৈঠক। ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের (IRIGC) সামরিক ও সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অধীনে আয়োজিত এই বৈঠকে দুই দেশের স্থলবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, অপারেশনাল সমন্বয় এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে রুশ প্রতিনিধিদলটি ভারতের শত্রুজিৎ ব্রিগেডও পরিদর্শন করে।
কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত
এই বৈঠকটি মূলত দুই দেশের ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও গভীর করার অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলালেও ভারত ও রাশিয়া নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে বদ্ধপরিকর। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের ভারত সফরের সময় যৌথভাবে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি, মহাকাশ গবেষণা এবং সার সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়। গত বছরের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতেই এই রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
উভয় দেশই বর্তমানে এমন একটি সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করতে চাইছে যা বাইরের ভূ-রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকবে। বিশেষ করে ‘তৃতীয় কোনো দেশের নেতিবাচক বা বৈরী পদক্ষেপ’ যেন দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে না পারে, সেই বিষয়ে মস্কো ও নয়াদিল্লি একমত হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রেমলিন সবসময় পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে। যৌথ সামরিক উৎপাদন ও সুরক্ষিত অর্থনৈতিক লেনদেন দুই দেশের স্বনির্ভরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে আসছেন পুতিন
চলতি বছরের ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২০২৬ সালের জন্য ভারত এই সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে পুতিনের এই সফরের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এটি হবে রুশ প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় ভারত সফর, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সমীকরণে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।