বেআইনি নির্মাণ ও নোটিসকাণ্ডে সুর নরম অভিষেকের, পুরসভার কাছে চাইলেন ১০ দিনের সময়!

কালীঘাটের শান্তিনিকেতন বাসভবনে বেআইনি নির্মাণ ও সম্পত্তির মূল্যায়ন বিতর্ক নিয়ে এবার কার্যত সুর নরম করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা পৌরনিগমের (কেএমসি) পাঠানো শোকজ নোটিসের জবাব দিতে আইনজীবী মারফত চিঠি দিয়ে আরও ১০ দিন সময় চেয়ে নিয়েছেন তিনি। এর আগে এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তৃণমূল সাংসদের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
১৭টি সম্পত্তি নিয়ে পুরসভার সাঁড়াশি চাপ
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গত ১৮ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কো ম্পা নি এবং তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা মোট ১৭টি সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে পাঠানো ওই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য মাত্র ৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্ধারিত সময়সীমা ফুরনোর আগেই শুক্রবার অভিষেকের তরফে কেএমসি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পৌঁছায়। তবে সময় চাওয়া হলেও, নোটিসে যেসব জরুরি নথি ও তথ্য তলব করা হয়েছিল, তা এখনও জমা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভার মেগা অভিযান
কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, ভবন নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের জন্য তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদককে নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তার জবাব দিতে সময় চেয়েছেন। পুরসভার তরফ থেকে এই সময় মঞ্জুর করার ইঙ্গিত মিললেও চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি কমিশনারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কমিশনার আরও জানান, বর্তমানে কলকাতায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চলছে এবং এই সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। বহু ভবন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে, যার কিছু মামলা এই মুহূর্তে আদালতেও বিচারাধীন।
এক ঝলকে
- শান্তিনিকেতন বাড়ির বেআইনি নির্মাণ ও সম্পত্তি মূল্যায়ন সংক্রান্ত নোটিসের জবাব দিতে কলকাতা পুরসভার কাছে ১০ দিন সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- গত ১৮ মে অভিষেকের বাড়ি ও ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কো ম্পা নিসহ তাঁদের পরিবারের ১৭টি সম্পত্তিতে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছিল পুরসভা।
- এর আগে বেআইনি অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, এবার নির্ধারিত ৭ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সুর নরম করে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল সাংসদ।
- কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, শহরে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান ও তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ সমান্তরালভাবে চলছে।