একটি প্রশ্নই আধ পাতা! আসাম্ভব কঠিন প্রশ্নপত্রে হতাশ UPSC পরীক্ষার্থীরা

একটি প্রশ্নই আধ পাতা! অসম্ভব কঠিন প্রশ্নপত্রে হতাশ UPSC পরীক্ষার্থীরা

বিশ্বের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পরীক্ষা শেষ হতেই দেশজুড়ে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চরম হতাশা। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি খোদ কর্মরত আইএএস (IAS) অফিসার এবং শিক্ষকরাও একে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে কঠিন এবং বিভ্রান্তিকর প্রশ্নপত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে জেনারেল স্টাডিজ (GS) পেপার ১ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে।

সময়ের সংকট ও দীর্ঘ প্রশ্নপত্র

জেনারেল স্টাডিজ পেপার ১-এ মোট ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য বরাদ্দ থাকে ১২০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীরা গড়ে মাত্র ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড সময় পান। অভিযোগ উঠেছে, এবারের এক-একটি প্রশ্ন প্রায় আধ পাতা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এর ফলে প্রশ্ন পড়তেই পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়েছে এবং জানা উত্তরও অনেকে সময়ের অভাবে লিখে আসতে পারেননি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অতীতে যেখানে সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র সাধারণত ৪০ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ পৃষ্ঠায়। দীর্ঘ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের কারণে অনেক পাতায় মাত্র দুটি করে প্রশ্ন জায়গা পেয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান করা কার্যত আসাম্ভব ছিল।

ধারণা বনাম মুখস্থ বিদ্যার লড়াই

এবারের প্রশ্নপত্রের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল এর অনিশ্চয়তা ও জটিলতা। একাধিক আমলা ও শিক্ষকের মতে, শুধু তথ্য মুখস্থ করে এবার পার পাওয়া সম্ভব ছিল না। প্রশ্নের ধরন এতটাই ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, তথ্যের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই ছিল মূল চাবিকাঠি। অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নগুলো সিলেবাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন দিল্লির শিক্ষকরা। এমনকি প্রিলিমসের সিলেবাসে না থাকা সত্ত্বেও এথিক্স বা নীতিশাস্ত্রের মতো জটিল বিষয়ের ছোঁয়া ছিল কিছু প্রশ্নে, যা পরীক্ষার্থীদের আরও বেশি বিভ্রান্ত করে তুলেছে।

কাট-অফ ও ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব

প্রশ্নপত্রের এই অভাবনীয় কাঠিন্যের কারণে স্বাভাবিকভাবেই এবারের কাট-অফ মার্কস অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেক অভিজ্ঞ মেন্টরের মতে, এই জটিল ধাঁচের প্রশ্নপত্র আগামী দিনে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশলে বড় ধরনের বদল আনতে বাধ্য করবে। প্রথাগত পড়াশোনার চেয়ে গভীর বিশ্লেষণাত্মক প্রস্তুতির ওপর এখন জোর দিতে হবে পরীক্ষার্থীদের। এদিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পরও এমন অবাস্তব প্রশ্নপত্রের মুখোমুখি হয়ে অনেকেই এখন আইএএস হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *