আগামী ৯ দিনের ভয়ংকর তাপপ্রবাহ! শরীর ঠান্ডা রাখতে এখনই জানুন বিশেষজ্ঞদের গোপন টিপস

আগামী ৯ দিনের ভয়ংকর তাপপ্রবাহ! শরীর ঠান্ডা রাখতে এখনই জানুন বিশেষজ্ঞদের গোপন টিপস

গ্রীষ্মের প্রখর দাপটের মাঝেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বছরের সবচেয়ে উত্তপ্ত ও কঠিন সময়, যা আবহাওয়ার পরিভাষায় ‘নৌতপা’ নামে পরিচিত। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই চরম দাবদাহের মরশুম চলবে আগামী ২ জুন পর্যন্ত। এই ৯ দিন সূর্যের প্রখর তাপে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) ইতিমধ্যেই দেশের বেশ কিছু এলাকায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। এই দিনগুলিতে পারদ ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার ফলে তৈরি হবে মারাত্মক হিটওয়েভ বা লু-এর পরিস্থিতি।

তীব্র দাবদাহে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কারণ

নৌতপার জেরে আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করায় এবং বাতাসে আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তীব্র গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে মূলত ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি, অতিরিক্ত গরমে ক্লান্তি এবং মারাত্মক হিটস্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি মাথা ঘোরা, চরম দুর্বলতা, ঘুমের অভাব, ত্বকে জ্বালাপোড়া ও ঠোঁট ফেটে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে মূলত শিশু, বয়স্ক মানুষ, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস আক্রান্ত এবং যাঁরা জীবিকার তাগিদে রোদের মধ্যে বাইরে কাজ করেন, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

সুস্থ থাকতে আয়ুষ মন্ত্রকের জরুরি প্রেসক্রিপশন

এই চরম পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছেন। হিটওয়েভ থেকে বাঁচতে তৃষ্ণা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে অল্প সময়ের ব্যবধানে জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ জলের পাশাপাশি প্রতিদিনের ডায়েটে ডাবের জল, ঘোল, ওআরএস, আম পন্না এবং ছাতুর শরবত রাখার কথা বলা হয়েছে। খাবারের তালিকায় তরমুজ, শসা, কাঁকুড়, টক দই এবং লাউ-ঝিঙের মতো জলসমৃদ্ধ সবজি রাখা আবশ্যক। অন্যদিকে অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার, কোল্ড ড্রিঙ্কস, মদ্যপান এবং অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোদ থেকে বাঁচতে জীবনযাত্রায় বদল

দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো অনুচিত। জরুরি কাজে বেরোতে হলে অবশ্যই ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করতে হবে এবং হালকা রঙের সুতির পোশাক পরতে হবে। দিনের বেলা ঘরের জানলায় ভেজা পর্দা ঝুলিয়ে ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি এই ক’দিন ভারী ওয়ার্কআউট থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অতিরিক্ত হৃদস্পন্দন কিংবা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে সেটিকে হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *