ক্ষমতার পালাবদলের পরেও উত্তপ্ত বাংলা, কোচবিহারে বিজেপির বিজয় মিছিলে চলল বোমা!

ক্ষমতার পালাবদলের পরেও উত্তপ্ত বাংলা, কোচবিহারে বিজেপির বিজয় মিছিলে চলল বোমা!

রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় হাসিল করে প্রথমবারের জন্য বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এখনও রাজ্যজুড়ে বড় আকারের কোনও বিজয় মিছিল না হলেও, জেলা স্তরে ছোট ছোট কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন বজায় রেখেছে পদ্ম শিবির। তবে এই উদ্‌যাপনের মাঝেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে রাজনৈতিক হিংসা। এবার কোচবিহারের সিতাই বিধানসভা এলাকায় বিজেপির একটি বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে, যাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

উদ্‌যাপনের মাঝেই অতর্কিত হামলা ও বোমাবাজি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের সিতাই বিধানসভার গোসানিমারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিলটি যখন ছোট নল ধোনরা এলাকায় পৌঁছায়, তখন সেখানে অংশগ্রহণকারী কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে আচমকা বোমাবাজি শুরু হয়। এই অতর্কিত হামলায় রঞ্জিত কুমার বর্মন নামে এক বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি

বিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। স্থানীয় বিজেপি নেতা নির্মল চন্দ্র দাস ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের কর্মীরা একটি মাঠে বসেছিলেন, সেই সময়ই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এসে তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মারে। অন্যদিকে, শাসকদল হাতছাড়া হওয়া তৃণমূল নেতৃত্ব তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছে।

রাজনৈতিক মহলে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণ ও প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ঐতিহাসিক পালাবদল ঘটলেও তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেকার তৃণমূল স্তরের সংঘাত এখনও প্রশমিত হয়নি। এর আগেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে এক বিজেপি নেতার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। কোচবিহারের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ক্ষমতার হাতবদলের পর দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেকার রেষারেষি আগামী দিনে আরও বড় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে। এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসা বজায় থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেমন বিঘ্নিত হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *