পুজোর আগেই ছন্দে ফিরছে ডুয়ার্স, খুলছে বন্ধ জোড়া বনবাংলো ও বাড়ছে হাতি সাফারি

ঘন সবুজে মোড়া ডুয়ার্সের জঙ্গল আর বুনো হাতির ডাকের মায়াবী টানে প্রতি বছরই উত্তরবঙ্গে ভিড় জমান হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ডুয়ার্সের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন পর্যটকেরা। অবশেষে কাটতে চলেছে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। আসন্ন দুর্গাপুজোর মরশুম শুরুর আগেই পর্যটকদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হচ্ছে গোরুমারা সাউথ রেঞ্জের অন্তর্গত অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি বনবাংলো ‘বিছাভাঙা হর্নবিল’ এবং ‘রামসাই রাইনো ক্যাম্প’। করোনা মহামারির সময় থেকেই এই দুটি বাংলোয় তালা ঝুলছিল। বনদফতরের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গের পর্যটন মহলে।
সংস্কারের কাজ শেষপর্যায়ে
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকার কারণে জঙ্গলের একেবারে গভীরে রাত্রিবাসের রোমাঞ্চকর সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল ভ্রমণপিপাসুদের। এই জনপ্রিয় কটেজ দুটি পুনরায় চালু করার জন্য পর্যটন ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো দাবি উঠছিল। অবশেষে সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে কটেজগুলি নতুন রূপে খোলার সবুজ সংকেত দিয়েছে বনদফতর। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও (ADFO) রাজীব দে জানিয়েছেন, পুজোর আগেই এই দুটি ক্যাম্প পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং এর সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শেষপর্যায়ে চলে এসেছে।
হাতি সাফারির রোমাঞ্চ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব
কটেজ খোলার পাশাপাশি পর্যটকদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে বনদফতরের তরফে আনা হচ্ছে অতিরিক্ত একটি সাফারি হাতি। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকেই নতুন এই হাতিটিকে লাটাগুড়িতে সাফারির কাজে নামানো হবে। বর্তমানে লাটাগুড়িতে মোট চারটি হাতি সাফারির দায়িত্ব সামলাচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন গড়ে ১৬ জন পর্যটক এই সুযোগ পান। নতুন হাতিটি যুক্ত হলে সাফারির পরিধি ও সিট সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
বনদফতরের এই জোড়া সিদ্ধান্তের ফলে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসা একধাক্কায় অনেকটাই চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুজোর ঠিক মুখে এই ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে ইতিমধ্যেই বুকিংয়ের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে, যা মন্দা কাটিয়ে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।