ইদের দিনে যাদবপুরে সাভারকর জয়ন্তী পালনের তোড়জোড়, উপাচার্যের অনুমতি চেয়ে চিঠি এবিভিপির!

ইদের দিনে যাদবপুরে সাভারকর জয়ন্তী পালনের তোড়জোড়, উপাচার্যের অনুমতি চেয়ে চিঠি এবিভিপির!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবার ‘বীর সাভারকর জয়ন্তী’ পালনের উদ্যোগ নিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। আগামী ২৮ মে হিন্দুত্ববাদী তাত্ত্বিক বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছে সংগঠনের যাদবপুর শাখা। ইদের দিনেই এই অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে।

উপাচার্যকে পাঠানো চিঠিতে এবিভিপি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানে সাভারকরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে সাভারকরের জীবন, আদর্শ এবং জাতি ও সমাজের প্রতি তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। চিঠিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন এবিভিপির যাদবপুর শাখার সভাপতি নিখিল দাস এবং সম্পাদক সঞ্জীবন দীপ বর্মন। এর আগে ক্যাম্পাসে রাম নবমী পালনের অনুমতি না মেলা এবং ইফতারের অনুমতি পাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এই ছাত্র সংগঠন।

জাতীয়তাবাদের বিতর্ক ও আদর্শগত সংঘাত

এবিভিপি নেতৃত্বের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়েছিল জাতীয়তাবাদের চেতনা থেকে, তাই এই ক্যাম্পাসে সাভারকরের জীবন ও ভাবনাকে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমি হওয়ায় এখানে সাভারকরকে যথাযথ সম্মান জানানো প্রয়োজন। তবে সাভারকরকে নিয়ে বিতর্কও কম নয়। সমালোচকদের বক্তব্য, আন্দামানের সেলুলার জেলে বন্দি থাকাকালীন তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে একাধিকবার ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিলেন। এমনকি সাভারকরের প্রপৌত্র সত্যকি সাভারকরও সম্প্রতি একটি মামলায় জানিয়েছেন যে, ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে পাঁচটি ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন করা হয়েছিল। যদিও এবিভিপির দাবি, বামপন্থী ও কংগ্রেসি বলয় দীর্ঘদিন ধরে সাভারকরের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য বদল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাম দুর্গ হিসেবে পরিচিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির এই তৎপরতা বাংলার রাজনীতিতে একটি বৃহত্তর আদর্শগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে আরএসএসের ভাবধারাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে যে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যাদবপুরের এই ঘটনা তারই অংশ। এবিভিপি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবেই আয়োজন করা হবে। তবে ২৮ মে ইদ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকায়, সূচির সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে অনুষ্ঠানটি আগামী ৫ মে করার বিকল্প ভাবনাও রয়েছে ছাত্র সংগঠনটির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *