অবৈধ বাংলাদেশি বিতাড়নে কেন্দ্রের কী গাইডলাইন, এড়িয়ে গেল অমিত শাহের মন্ত্রক

ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে স্বদেশে ফেরত পাঠানো বা ‘ডিপোর্ট’ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা এসওপি (Standard Operating Procedure) ঠিক কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সম্প্রতি এই বিষয়ে তথ্য জানার অধিকার আইনে (RTI) একটি আবেদন করা হলেও অমিত শাহের মন্ত্রকের তরফে কোনও স্পষ্ট উত্তর মেটেনি। উল্টো এই সংক্রান্ত প্রশ্নটিকে ‘অস্পষ্ট’ বলে দায় এড়ানো হয়েছে। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এল, যখন পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতিতে জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে।
আরটিআই আবেদনে কেন্দ্রের ধোঁয়াশা
অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি রয়েছে কি না, তা জানতে একটি আরটিআই দাখিল করা হয়েছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স-I ডিভিশন জানিয়েছে, এই তথ্যের একটি বড় অংশ ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশনের কাছে রয়েছে, যা আরটিআই আইনের আওতাভুক্ত নয়। একই সঙ্গে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও মেকানিজম জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রক বিষয়টিকে অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এটুকু স্পষ্ট করেছে যে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫ অনুযায়ী অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ, নিয়ন্ত্রণ এবং ডিপোর্ট করার ক্ষমতা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন অত্যন্ত আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মালদা ও লালগোলার মতো এলাকায় রাজ্যের প্রথম হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে আদালতে পাঠানোর বা জেলে রেখে সরকারি খরচে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। পুলিশ সরাসরি তাদের আটক করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে এবং বিএসএফ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সাঁড়াশি অভিযানের মূল কারণ হিসেবে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্পদের অপচয় বন্ধ করাকে উল্লেখ করছে প্রশাসন। মন্ত্রীদের একাংশের হুঁশিয়ারি, অনুপ্রবেশকারীরা নিজে থেকে চলে না গেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে। তবে কেন্দ্রের নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা এসওপির অনুপস্থিতি এবং আরটিআই-এর উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি আগামী দিনে এই বিতাড়ন প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা ও রাজ্য-কেন্দ্র সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বন্দি বা অনুপ্রবেশকারী প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় এর কেমন প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।