সই জাল কাণ্ডে কালীঘাটে সিআইডির তল্লাশি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র ক্ষোভ!

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবপত্রে সই জালিয়াতির অভিযোগে কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কার্যালয়ে অভিযান চালাল রাজ্য পুলিশের সিআইডি। মঙ্গলবার বিকেলে ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সিআইডির মহিলা দল কার্যালয়ে প্রবেশ করে তদন্ত চালায়। তবে তল্লাশি শেষে কোনো নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলেই দলের তরফে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বিতর্কিত সই ও সিআইডির তল্লাশি
মূলত বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সম্মতি জানিয়ে জমা দেওয়া ৭০ জন বিধায়কের সই করা প্রস্তাবনাপত্র ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বেশ কয়েকজন বিধায়ক তাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলার পর জল গড়ায় সিআইডি তদন্ত পর্যন্ত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বিতর্কিত প্রস্তাবনা সেশনের রেজোলিউশনের কপি খুঁজতে এই তল্লাশি চালানো হয়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক দিল্লিতে থাকায় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা কোষাধ্যক্ষ শুভাশিষ চক্রবর্তী প্রথমে বাধা দিলেও, পরবর্তীতে সার্চ ওয়ারেন্ট দেখিয়ে আধিকারিকরা ভিতরে প্রবেশ করেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুংকার ও সম্ভাব্য প্রভাব
দিল্লি থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে নেমেই তল্লাশির খবর পেয়ে কালীঘাটে পৌঁছন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে মমতার বাড়ির উঠোনে ঢুকে তিনি সিআইডি আধিকারিকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং এই তল্লাশিকে হেনস্তাবাজি বলে অভিহিত করেন। কার্যালয়ের বাইরে কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র উপস্থিত থাকলেও কল্যাণের এহেন ক্ষোভ প্রকাশ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শাসকদল ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যকার দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে দিল। সই জালিয়াতির মতো আইনি জটিলতা আগামী দিনে যেমন দলের অস্বস্তি বাড়াতে পারে, তেমনই বিরোধীরা এই ইস্যুকে সামনে রেখে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখার সুযোগ পাবে।