ওমান উপকূলে ২৪ ভারতীয় নাবিক থাকা জাহাজে মার্কিন হামলা, দায় স্বীকার ওয়াশিংটনের!

ওমান উপকূলে মাদাগাস্কারের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যতরীতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। এমটি মারিভেক্স নামের ওই বাণিজ্যতরীতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। সোমবার দুপুরের এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ালেও, সৌভাগ্যবশত সকল নাবিককে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এই হামলার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।
কেন এই হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী এলাকায় কঠোর নৌ অবরোধ জারি রয়েছে। আক্রান্ত বাণিজ্যতরীটি ভারতের কর্নাটকের কারওয়ার থেকে ওমানের দুকামের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। কিন্তু জাহাজটি মার্কিন সেনার নির্দেশিকা অমান্য করে ইরানের বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করায় বাধ্য হয়ে জাহাজটি লক্ষ্য করে যুদ্ধাস্ত্র ছোড়া হয়। যার ফলে সাগরের মাঝেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে তরটি। আমেরিকার দাবি, গত ১৩ এপ্রিল নৌ অবরোধ শুরুর পর থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী মোট সাতটি জাহাজকে তারা এভাবেই অচল করে দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা সংকট
মাঝসমুদ্রে ২৪ ভারতীয় নাবিকের জীবন সংশয় তৈরি হলেও তাদের দ্রুত উদ্ধার করায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো গেছে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরাশক্তিধর দেশের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে চলা এই নৌ অবরোধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা এবং নাবিকদের জীবনঝুঁকি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।