ঘামের অস্বস্তিতে জেরবার জীবন, ঘরোয়া টোটকাতেই মিলবে ম্যাজিকের মতো সমাধান!

অসহ্য গরমে একটু-আধটু ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হলেও, অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় আবহাওয়া ঠান্ডা থাকার পরও শরীর বেয়ে অবিরাম ঘাম ঝরছে। এই অতিরিক্ত ঘাম দৈনন্দিন জীবনে শুধু তীব্র অস্বস্তিই বাড়ায় না, বরং অনেক সময় লোকসমাজে বিব্রতকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঘাম হওয়াকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়, কারণ এটি শরীরের ভেতরের কোনো বড় সমস্যার পূর্বলক্ষণও হতে পারে। তাই শুরুতেই সতর্ক হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কেন হয় এই অতিরিক্ত ঘাম
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শরীরে সুপ্ত কোনো রোগ না থাকলেও কেবল স্নায়ুর উদ্দীপনার কারণে ঘর্মগ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠলে বেশি ঘাম হতে পারে। তবে এর বাইরেও একাধিক শারীরিক কারণ জড়িয়ে রয়েছে এই সমস্যার সাথে। সাধারণত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা, নারীদের মেনোপজ বা ঋতুনিবৃত্তিকালীন জটিলতা এবং তীব্র মানসিক উদ্বেগ বা স্ট্রেসের কারণে মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঘামতে শুরু করে।
স্বস্তি মিলবে জীবনযাত্রার সহজ পরিবর্তনে
অতিরিক্ত ঘামের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামি ওষুধ বা কেমিক্যালের পেছনে না ছুটে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই সুফল পাওয়া সম্ভব। সিনথেটিক কাপড়ের পোশাক শরীরের ঘাম আটকে রেখে অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করে নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা আবশ্যক।
খাদ্যাভ্যাসে বদল এনে অতিরিক্ত ঝাল, টক এবং তেল-মশলাযুক্ত গরম খাবার এড়িয়ে চললে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর পাশাপাশি কিছু কার্যকর ঘরোয়া টোটকা এই সমস্যায় ম্যাজিকের মতো কাজ করে। যেমন— রাতে এক গ্লাস জলে মেথি কিংবা কিশমিশ ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই জল পান করলে ঘাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। আবার ঘাম প্রবণ অংশে চন্দন বাটা অথবা সারিভা, চন্দন, আমলকি গুঁড়ো ও গোলাপ জলের ভেষজ মিশ্রণ ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেললে দারুণ স্বস্তি মেলে।
তবে ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং তা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তবে কালক্ষেপ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অবহেলা করলে ভেতরের রোগটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।