প্রিয় মাংসের মায়া ত্যাগ করলেন বৈভব সূর্যবংশী! টিম ইন্ডিয়ার জার্সির জন্য ১৮ বছরের বিস্ময় বালকের কঠিন তপস্যা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে বিশ্বজয়ের স্বাদ এনে দেওয়া বিহারের তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী এখন ক্রিকেট মহলের নতুন সেনসেশন। ব্যাট হাতে মাঠের চারদিকে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া এই বাঁ-হাতি ওপেনার এবার মাঠের বাইরেও এক কঠিন লড়াই শুরু করেছেন। লক্ষ্য একটাই— ভারতীয় সিনিয়র দলের নীল জার্সি গায়ে তোলা। আর সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর অতি প্রিয় খাবার চিকেন এবং মাটন। ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্নে এবার নিজের খাদ্যাভ্যাস থেকে মাংসকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেললেন বৈভব।
ফিটনেস রক্ষায় আমিষ বর্জন
সিনিয়র দলের দরজায় কড়া নাড়তে গেলে শুধু রান করলেই চলে না, প্রয়োজন অতিমানবিক ফিটনেস। আর সেই কথা মাথায় রেখেই বৈভব সূর্যবংশী এখন একজন কট্টর নিরামিষাশী। তাঁর বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শরীরকে আরও নমনীয় করার জন্য বৈভব চিকেন ও মাটন খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। বিহারের এই তরুণ ক্রিকেটারের কাছে মাংস অত্যন্ত প্রিয় ছিল, কিন্তু দেশের হয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য তাঁর কাছে স্বাদের চেয়ে অনেক বেশি বড়।
ডায়েটে এখন কী থাকছে
বর্তমানে রাজস্থান রয়্যালস শিবিরের সঙ্গে অনুশীলনে ব্যস্ত বৈভব প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এখন পনীরের ওপর ভরসা রাখছেন। সঞ্জীববাবু জানিয়েছেন যে, বৈভব এখন নিয়মিত ডাল, ভাত এবং প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খাচ্ছেন। ফাস্ট ফুড বা তেল-ঝাল মশলাদার মাংসের বদলে এই সাধারণ খাবারই এখন তাঁর ফিটনেস মন্ত্র। ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে নির্বাচকদের নজরে আসতে গেলে যে পরিমাণ শারীবিক সক্ষমতা প্রয়োজন, তার জন্যই এই আত্মত্যাগ করছেন তিনি।
ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ফর্ম
সম্প্রতি সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে ১৭৫ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন বৈভব। গোটা টুর্নামেন্টে ৪৩৯ রান করে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তাঁর এই বিধ্বংসী ফর্মের কারণেই ২০২৬ আইপিএল মরশুমের জন্য রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে ১.১০ কোটি টাকায় ধরে রেখেছে। গত বছরই আইপিএলে অভিষেক হওয়া বৈভবের স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৬.৫৬, যা দেখে অনেক বিশেষজ্ঞই তাঁকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার মনে করছেন।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় এই শৃঙ্খলা বৈভবকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যায় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই প্রিয় খাবার ত্যাগ করার এই মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমে ঢোকার জন্য তিনি কতটা মরিয়া।