সবুজ-মেরুনের ট্রফি আর অপমানের জবাব মাঠে, লাল-হলুদে ইতিহাস লিখলেন আনোয়ার আলী!

সবুজ-মেরুনের ট্রফি আর অপমানের জবাব মাঠে, লাল-হলুদে ইতিহাস লিখলেন আনোয়ার আলী!

দীর্ঘ দুই দশকের ট্রফিখরা, সমাজমাধ্যমে নিরন্তর বিদ্রুপ আর গ্যালারির জমাটবদ্ধ চোখের জল, সব কিছুর অবসান ঘটল ২১ মে-র রাতে। লেসলি ক্লডিয়াস সরণীতে অবশেষে ফিরল কাঙ্ক্ষিত উৎসবের আলো। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের রাজত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) অধরা ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল এফসি। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের কেন্দ্রে ট্রফির পাশাপাশি উজ্জ্বল হয়ে রইল এক ফুটবলারের নীরব প্রতিশোধের গল্প, তিনি আনোয়ার আলী।

অপমান ও দলবদলের অগ্নিপরীক্ষা

কলকাতা ময়দানে দলবদল মানেই এক চরম মানসিক টানাপোড়েন। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের সফলতম ডিফেন্ডার যখন দল ছেড়ে ট্রফিখরায় ভুগতে থাকা লাল-হলুদ জার্সি গায়ে তোলেন, তখন মাঠের বাইরের লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে যায়। মোহনবাগান ছেড়ে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আনোয়ারকে সইতে হয়েছে নজিরবিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ। সমাজমাধ্যমে ধেয়ে এসেছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ থেকে শুরু করে চরম অবমাননাকর কটাক্ষ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বিপুল অঙ্কের জরিমানা ও নির্বাসনের আইনি চাপ। কিন্তু মাঠের বাইরের এই বিপুল মানসিক চাপকে বড় কোনো বিতর্ক ছাড়াই সামলেছেন ভারতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার।

নীরবতা ও মাঠের জবাব

অতীতে মারাত্মক হৃদরোগের সমস্যা কাটিয়ে যেভাবে ফুটবল মাঠে ফিরেছিলেন আনোয়ার, সেই একই লড়াইয়ের মানসিকতা তিনি দেখালেন ময়দানী ডার্বির উত্তেজনায়। ডুরান্ড কাপ কিংবা আইএসএলের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে মোহনবাগানের কাছে হার এবং দলের টানা ব্যর্থতায় যখন সমালোচনা তীব্র হচ্ছিল, তখনও ভেঙে পড়েননি তিনি। কোনো পাল্টা বিবৃতিতে না গিয়ে চুপচাপ নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন রক্ষণভাগে। শেষ পর্যন্ত আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে সমস্ত ট্রোল এবং অপমানের যোগ্য জবাব দিলেন এই ফুটবলার।

ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত

ইস্টবেঙ্গলের এই খেতাব জয় শুধু ২২ বছরের খরা কাটাল না, বরং ভারতীয় ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। এই জয়ের ফলে ক্লাবের ওপর লগ্নিকারীদের ভরসা যেমন বাড়বে, তেমনই আগামী মরশুমগুলোতে দল গঠনের ক্ষেত্রে মানসিক সুবিধা পাবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। অন্যদিকে, আনোয়ার আলীর এই ঘুরে দাঁড়ানো প্রমাণ করল যে, পেশাদার ফুটবলে ট্রফিই শেষ কথা বলে এবং মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বড় কোনো জবাব হয় না। এই ট্রফি জয় আনোয়ারের ফুটবলার জীবনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *