উচ্চবর্ণের পড়শির অসভ্যতায় আপত্তি, পিটিয়ে খুন দলিতকে

উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাতে এক মর্মান্তিক জাতিবিদ্বেষী হিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মদ্যপ অবস্থায় উচ্চবর্ণের প্রতিবেশীর গালিগালাজ ও অসভ্যতার প্রতিবাদ করায় প্রাণ হারাতে হলো দেবকীনন্দন পাসোয়ান (৫০) নামে এক দলিত কৃষককে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহতের স্ত্রী মমতা পাসোয়ান। পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত গোবিন্দ সিং ও তার স্ত্রীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় কানপুর দেহাতের মালিকপুর গ্রামে মদ্যপ অবস্থায় দেবকীনন্দনের বাড়িতে চড়াও হয় প্রতিবেশী গোবিন্দ সিং। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সে কৃষক পরিবারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। দেবকীনন্দন ও তাঁর স্ত্রী এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এর পরেই গোবিন্দ সিংয়ের স্ত্রী তার ভাই ও আত্মীয়দের খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে।
নৃশংস হামলা ও মৃত্যু
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের মেয়ের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই দম্পতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাধা দিতে গেলে দেবকীনন্দনের মেয়ে গোমতীকেও মারধর করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে কানপুরের সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় দেবকীনন্দনের। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার পর অভিযুক্তরা গ্রাম ছেড়ে পালালেও পুলিশি অভিযানে তাদের ধরা সম্ভব হয়েছে। শিবলি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রবীণ কুমার সিং জানিয়েছেন:
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর খুনের ধারা যোগ করা হয়েছে।
- মূল অভিযুক্ত গোবিন্দ সিং ও তার স্ত্রীসহ ৬ জন এখন পুলিশি হেফাজতে।
- গ্রামে উত্তেজনা ছড়ানো রুখতে এবং শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় মালিকপুর গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।