ট্রাম্পের ট্যারিফে ভারতের অর্থনীতি ধাক্কা খাবে? বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট অন্য কথা বলছে…

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ বা শুল্ক বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতির জয়যাত্রা অব্যাহত। মার্কিন রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.২ শতাংশ করল বিশ্বব্যাঙ্ক। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার মতে, বাইরের চাপ থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এতটাই শক্তিশালী যে তা যেকোনো ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম।
শুল্ক যুদ্ধ ও ভারতের অবস্থান
ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে ভারতের ওপর বিদ্যমান ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক বেড়ে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাঙ্ক তাদের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে হবে অত্যন্ত সীমিত। ২০২৫ সালের জুনে দেওয়া ৬.৩ শতাংশ পূর্বাভাসের তুলনায় এবার এক ধাক্কায় ০.৯ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে প্রবৃদ্ধির হার।
কেন ভারতের ওপর ভরসা বিশ্বব্যাঙ্কের?
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ক্রমবর্ধমান ভোগ প্রবণতাই এর প্রধান শক্তি।
- শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা: ভারতের বিশাল নিজস্ব বাজার বাইরের রফতানি হ্রাসের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে।
- কর ছাড় ও গ্রামীণ আয়: সরকারি কর হ্রাস এবং গ্রামীণ এলাকায় আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের কেনাকাটার ক্ষমতা বেড়েছে।
- পরিষেবা ক্ষেত্র: ভারতের শক্তিশালী পরিষেবা রফতানি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।
ভবিষ্যতের সতর্কতা ও সম্ভাবনা
বিশ্বব্যাঙ্ক অবশ্য কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক যদি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তবে ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে ৬.৫ শতাংশে নামতে পারে। এছাড়া পণ্য রফতানি হ্রাস এবং রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের (গড় ৫-৫.৬ শতাংশ) তুলনায় ভারত যে অনেক দ্রুতগতিতে এগোবে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।