৩৫ বছর পর রানওয়েতে রহস্যময় বিমান: টাইম ট্রাভেল না কি নিছক গল্প?

আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে ১৮ ঘণ্টার পথ পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই রাডার থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় সেটি। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৫ বছর। হঠাৎ একদিন আকাশ থেকে নেমে এলো সেই একই বিমান। রহস্যে ঘেরা এই ঘটনাটি ‘সান্তিয়াগো ফ্লাইট ৫১৩’ নামে পরিচিত, যা আজও আধুনিক বিজ্ঞান ও মানুষের কল্পনাকে চ্যালেঞ্জ জানায়।
নিখোঁজ ও ফিরে আসার অবিশ্বাস্য আখ্যান
১৯৫৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সান্তিয়াগো থেকে ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রের উদ্দেশে রওনা দেয় সান্তিয়াগো ফ্লাইট ৫১৩। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ তল্লাশির পরও কোনো ধ্বংসাবশেষ না মেলায় ধরে নেওয়া হয়েছিল বিমানটি মাঝসমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছে।
চমকপ্রদ মোড় আসে ১৯৮৯ সালে। ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রে বিমানবন্দরে হঠাৎ অবতরণ করে একটি পুরনো ধাঁচের বিমান। দেখা যায়, এটি সেই ১৯৫৪ সালে নিখোঁজ হওয়া ফ্লাইট ৫১৩। ৩৫ বছর পর ঠিক একই অবস্থায় বিমানটি রানওয়েতে ফিরে আসায় হতবাক হয়ে যান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ককপিটে শিউরে ওঠা দৃশ্য
বিমানের দরজা খোলার পর ভেতরে যা দেখা গিয়েছিল, তা কোনো ভৌতিক সিনেমার চেয়ে কম নয়। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, বিমানের ভেতরে যাত্রীরা তাদের নির্দিষ্ট আসনেই বসা ছিলেন, কিন্তু তাদের রক্ত-মাংসের অস্তিত্ব ছিল না। এমনকি ককপিটে পাইলটও তার আসনেই বসা ছিলেন। বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার চিহ্ন ছিল না, অথচ দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকে বিমানে থাকা মানুষদের কী হয়েছিল, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা মেলেনি।
সত্য নাকি গুজব?
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ‘টাইম ট্রাভেল’ বা সময় ভ্রমণের বিতর্ক উস্কে দেয়। গবেষকদের একাংশ মনে করেন এটি মহাকাশের কোনো ‘ওয়ার্মহোল’ বা কৃষ্ণগহ্বরের কারসাজি। তবে বাস্তবে এই ঘটনার স্বপক্ষে কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র বা বৈমানিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেকেই মনে করেন, এটি ইন্টারনেট ও লোকমুখে প্রচলিত একটি ‘আরবান লিজেন্ড’ বা কাল্পনিক রহস্য গল্প।