সম্প্রীতির অনন্য নজির: বিহারে বিশ্বের বৃহত্তম রামায়ণ মন্দিরের জন্য ২০ একর জমি দিলেন মুসলিমরা

বিহারের পূর্ব চম্পারণে গড়ে উঠছে বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর অন্যতম ‘বিরাট রামায়ণ মন্দির’। তবে এই মন্দিরের বিশালত্বের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে মানুষের ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। মন্দিরটি নির্মাণের জন্য প্রায় ২০ একর জমি স্বেচ্ছায় দান করেছেন স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলো।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ভিত্তি
১২০ একর জমির ওপর নির্মিত এই মন্দিরের জন্য ইশতিয়াক আহমেদ খানের মতো মুসলিম ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসেছেন। একা ইশতিয়াক খানই দান করেছেন প্রায় ২.৫ কোটি টাকা মূল্যের জমি। সব মিলিয়ে মুসলিম পরিবারগুলোর দান করা ২০ একর জমি আজ এই মন্দিরের সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অযোধ্যার চেয়েও বিশাল এই মন্দির
অযোধ্যার রাম মন্দিরের চেয়েও বড় এবং উঁচু হতে চলেছে এই বিরাট রামায়ণ মন্দির। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- উচ্চতা ও দৈর্ঘ্য: মন্দিরটি ২৭০ ফুট উঁচু (বিশ্বের সর্বোচ্চ হিন্দু মন্দির) এবং ১০৮০ ফুট দীর্ঘ হবে।
- স্থাপত্যশৈলী: সম্পূর্ণ চুনার পাথর ও রাজস্থানী খোদাইয়ে নির্মিত এই মন্দির চত্বরে থাকবে মোট ২২টি মন্দির এবং ১৮টি দৃষ্টিনন্দন চূড়া।
- ব্যয়ভার: প্রায় ১০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কাঠামোটি হবে সম্পূর্ণ ভূমিকম্পরোধী।
গিনেস রেকর্ডের পথে বিশ্বের বৃহত্তম শিবলিঙ্গ
এই মন্দিরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বিশ্বের বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। তামিলনাড়ুর মহাবালিপুরম থেকে ৪৭ দিনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গত ৫ জানুয়ারি এটি চম্পারণে এসে পৌঁছেছে। আগামী ১৭ জানুয়ারি পাঁচটি পবিত্র নদীর (গঙ্গোত্রী ও মানস সরোবরসহ) জল দিয়ে এর প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হবে।